ফয়সালের ভিডিও বার্তা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে : ডিএমপি কমিশনার

হাদি হত্যাকাণ্ড

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার মূল আসামি ফয়সালের দু’টি ভিডিও বার্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নো-কমেন্টস’। ভিডিওটা আমরা পরীক্ষা করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বক্তব্য দেবো।

নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমানে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, অনেকেই চাচ্ছেন। আমাদের রিসোর্স সক্ষমতার দিকে তাকাতে হচ্ছে। আপনার জীবনে কতটা হুমকি আছে এটা বিশেষ পুলিশ (এসবি) দিয়ে যাচাই করি। যাচাইয়ের পরে এসবি যখন বলে যে ইয়েস এক্স, ওয়াই, জেড-এর জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে তখন এসবি অথবা গানম্যান দিচ্ছি। নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতেও যদি কেউ প্রার্থী বা ওরকম কোনো ব্যক্তি জীবনের নিরাপত্তা বা ঝুঁকির কথা আমাদের বলেন আমরা যাচাই করে গানম্যান দিতে প্রস্তুত আছি।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, তবে সবসময় মনে রাখবেন আমাদের দেশ গরিব, গরিব পুলিশ বিভাগ, আমাদের নির্বাচন হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি যদি সব লোকবল এ ধরনের কাজেই নিয়োগ করি তাহলে ভোটকেন্দ্র কে পাহারা দেবে? আমাদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়াটা, তারপরে মাস্তানি-সন্ত্রাসী নানান ধরনের ভোটের যে জটিলতা আছে এগুলো অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। আমরা সবদিকে ব্যালেন্স করে সক্ষমতার দিকে তাকিয়ে কতটুকু কী সম্ভব সেটি করার চেষ্টা করছি।

শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, আমি পুলিশ কমিশনার হিসেবে যতই চেষ্টা করি আপনাদের বন্ধু বানানোর, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা আমাকে ছাড় দেন না। আমার সহকর্মীদেরও আপনারা ছাড় দেন না সেটি আমার জানা। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পুলিশের সাথে বিশেষ করে ডিএমপির সাথে যেন আপনাদের একটা সেতুবন্ধ থাকে। আপনারা (সাংবাদিক) পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আমার অনুরোধ সে ক্ষেত্রে যেন কোনোরূপ বাড়াবাড়ি বা কোনো ধরনের ত্রুটির কারণে আমার সহকর্মীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গত বছর দেশের ইতিহাসে খুবই টার্বুলেন্ট ছিল।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে পুলিশ বিভাগে ব্যাপক রদবদল লটারির মাধ্যমে হয়েছে। ডিএমপি একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্গানাইজেশন উইথ দ্য পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। এখানে ভোলার তমিজউদ্দিন থানার ওসিকে নিয়ে এসে গুলশানের ওসি করলে সে পারে না। সে তখন বিল্ডিং কয়তালা সেটি গোনে। মেয়েটা মোজা পরছে নাকি তার চামড়াই এ রকম এটা দেখে। তাই এরূপ অবস্থার ভেতরে মফস্বল থেকে একজন অফিসার নিয়ে এসে মোহাম্মদপুরের ওসি করলে মাথা ঘোরে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তারপরেও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, মফস্বল থেকে আনলে আপনাদেরই অসুবিধা হবে। ঢাকার ওসি যারা ছিলেন কিছু বাদ দিয়ে তাদের ভেতর থেকে লটারি করে ওসি করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে সবুজবাগ থানায় যিনি ছিলেন তার ভাগ্যে মোহাম্মদপুর পড়লে সবুজবাগের অফিসার হিসেবে যে ধরনের কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি থাকা দরকার সেটি দিয়ে মোহাম্মদপুরে চলে না।

তাই এ অসুবিধার ভেতরেও আমার অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী ৪০ দিন যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। চলতি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ থেকে সম্ভবত ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তখনই সবচেয়ে বড় জটিলতা হওয়ার কথা।