একটি চক্র গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত -রিজভী

Printed Edition
3rd-3
লহ্মীপুরে অগ্নিদগ্ধ বিএনপি নেতা বেলালকে দেখতে যান রুহুল কবির রিজভী : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্ছৃঙ্খল জনতার একটি চক্র গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

গতকাল সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন নেতাদের সাথে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে সারা দেশে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে গণতন্ত্র কখনোই শক্তিশালী হবে না।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণ এখন ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের অপচেষ্টাকে কোনোভাবেই সুযোগ না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিদেশের সাথে অসম চুক্তিতে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে জনগণের অর্থের অপচয় করেছে। জনগণের কষ্টার্জিত টাকাকে নিজের মনে করে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ইশরাক এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই প্রজন্মের নেতাকর্মীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরেও আমরা এমনটি দেখি নাই যেভাবে আজ প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু ১৯৭১ সালে একটি দলের ভূমিকা আড়াল করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর এক থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আজ সত্যিই এক থাকতে পারছি কিনা, সেটা আমাদের ভাবতে হবে। এর ফলেই হাদির মতো দেশপ্রেমিকেরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে এবং অপরাধীরা পালিয়ে যেতে পারছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কে এম আই মন্টি, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহেল রানা, মো: জাকির হোসেন, এ বি এম হেলাল উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

দুষ্কৃতিকারীরা সারা দেশে অঘটন ঘটাচ্ছে কিন্তু ধরা পড়ছে না

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা সারা দেশে অঘটন ঘটাচ্ছে, রক্তপাত করছে, কিন্তু ধরা পড়ছে না? তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন, আগেতো এমনটি ছিল না? অপরাধ করার পর কয়েকদিনের মধ্যে তাদের খুঁজে পাওয়া যেতো, ধরা যেতো, এক দিন, দু-দিন অথবা কিছু দিনের মধ্যে ধরা পড়তো অপরাধীরা।

গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুতার গোপটা এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলছি আপনারা তৎপর হোন, না হলে আপনাদের প্রতি জনগণের সন্দেহ জাগবে। আপনাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধী ও খুনিরা পার পেয়ে গেলে, এ দেশে অন্ধকার নেমে আসবে। অসহায়দের পাশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হিমালয় পর্বতের মতো প্রাচীর হয়ে থাকবে। কোন দুষ্কৃতিকারী, অপরাধী আর যেন গ্রামে গ্রামে পরিবারে পরিবারে হামলা, গুলি ও আগুন দিতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের দেখতে হবে।

বিএনপি নেতা রিজভী আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে আরো বলেন, এদের অত্যাচার, নৃশংসতা, ভয়াবহতা, রক্ত পিপাসু ও এদের চেতনা সারা বাংলাদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। ৫ আগস্ট পুলিশের গুলির মুখে নিজের জীবন দিয়ে দেয় ছাত্র-জনতা। শেখ হাসিনার মতো ভয়ঙ্কর দানবীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল। তারপরও তারা থেমে নেই। তারা বাংলাদেশকে স্থীতিশীল থাকতে দিবে না, যারা আশ্রয় দিয়েছে, সেখান থেকে দুধ-কলা দিয়ে পোষণ করে সুতার টান দিচ্ছে। চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকে গুলি, ঢাকায় তরুণ ছাত্র নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা আর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে শিশু হত্যা, সবই একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নেতা রিজভী। তিনি বলেন, লুটপাট চালিয়ে অর্থপাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, তারা এখন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। যেন দেশে কোন নির্বাচন না হতে পারে।

এর আগে অগ্নিদগ্ধ বিএনপি নেতা বেলালকে দেখতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ছুটে যান রিজভী। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে নগদ ৪ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। পরে নিহত শিশু আয়েশার কবর জেয়ারত ও পরিবারের সাথে কথা বলেন রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান ও বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, বিএনপি নেতা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ অনেকে।

গত শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক বেলাল হোসেনের ঘরে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বেলালের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়য়া মেয়ে আয়েশা আক্তার অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। বেলাল ও তার আরো দুই মেয়ে স্মৃতি ও বিথী অগ্নিদগ্ধ হয়। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি থানায়। ঘটনার রহস্যও উদঘাটন হয়নি।