বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিংয়ে সিইসি

কমিটমেন্ট ফোকাসে রেখেই এগোচ্ছি ভয়ের কিছু নেই

Printed Edition
first-3
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘জাতির কাছে আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছি, সেটিকেই ফোকাসে রেখে এগোচ্ছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটি ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গতকাল বুধবার বিদেশী সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সাথে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কারাগারে থাকার প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ব্যক্তিগত চাপ বা উদ্বেগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, কমিশন দায়িত্ব ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার অনুযায়ীই কাজ করছে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আস্থা পুনর্গঠনে জোর : সিইসি জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কমিশন নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জন আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দল ও সুশীলসমাজের সাথে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। স্বচ্ছতাই আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি।’

ভোটার তালিকায় বড় সংযোজন : দেশব্যাপী হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, এদের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কাজে জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।

প্রবাসীদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোট : এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সীমিত প্রস্তুতির সময়েও প্রায় আট লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা কমিশনের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন সিইসি। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও নির্ধারিত শ্রেণীর ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট সুবিধা রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি; প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক; ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক; দেশের ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক এবং ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত রয়েছেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো বিচ্যুতি থাকলে সাংবাদিকরাই তা সবার আগে তুলে ধরবেন। এতে নির্বাচন আরো বিশ্বাসযোগ্য হবে।’

নিরাপত্তায় সমন্বিত ব্যবস্থা : সিইসি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটারদের নির্বিঘœ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটের দিন ও আগের দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। কেন্দ্রেই ভোটগণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সঙ্কলন করে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করবেন।

আন্তর্জাতিক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনারের উপস্থাপনা : ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তুলে ধরেন এবং বিদেশী পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে অন্য কমিশনাররা এবং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আকাশপথে নজরদারি : বিমানবাহিনীর ইউএভি মোতায়েন

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে নজরদারি জোরদারে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মানুষবিহীন আকাশযান (ইউএভি) মোতায়েন করেছে। নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সূত্রে জানা গেছে, আকাশ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করা হবে।

সারা দেশে প্রায় তিন হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানবাহিনী প্রধানের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও ইউএভি ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব ড্রোন থেকে প্রাপ্ত লাইভ ভিডিও ফিড কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এবং প্রধান উপদেষ্টার দফতরে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।