দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ঢাকা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ দূষিত নগরী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর সূচকে গতকাল সকাল ৯টায় দেখা যায়, ঢাকার একিউআই স্কোর ৩০৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বাতাসে উচ্চমাত্রায় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের অস্থিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে, আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান। ঢাকার বাতাসে এসব বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ বলে নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে।

গবেষণায় ঢাকা শহরের বাতাসে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে এমন আরেকটি উপাদান কোবাল্টের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বের ২৭টি স্থানে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি এবং ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্প, কয়লাভিত্তিক ইটভাটা এবং যানবাহন রাসায়নিক উপাদানগুলোর উচ্চ ঘনত্বের জন্য দায়ী। এতে বলা হয়েছে, ঢাকাই একমাত্র স্থান যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি মানদণ্ড ছাড়িয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাংলাদেশও। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকার বাতাস দূষিত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বায়ুমান কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও গতকাল সকালে আবারো ঢাকার বায়ুর মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

একই সময়ে ২৮৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। আর ২৩৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে দেশটির আরেক শহর কলকাতা, দুটোই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর তালিকায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই সূচকে ০ থেকে ৫০ ভালো। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি। ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর। ৩০১ থেকে ৪০০ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ পর্যায়ের বায়ুদূষণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ অবস্থায় বাসায় অবস্থান করা এবং বাইরের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় ঢাকায় ২০ শতাংশ সবুজ এলাকার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান তা ১২ শতাংশ কমে প্রায় ৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে। বছরে ৩ বর্গমিটার করে কমছে ফাঁকা জায়গা। ফলে উত্তাপ বাড়ছে প্রায় এক শতাংশ করে। অসহনীয় বায়ু দূষণের সাথে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়াচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী একিউআই নির্ধারণ করা হয় পাঁচ ধরনের দূষকের মাত্রা বিবেচনায় পিএম ১০, পিএম ২ দশমিক ৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে দ্রুত বর্ধনশীল নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং খোলা স্থানে আবর্জনা পোড়ানো বায়ুদূষণের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।