বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুসহ নিহত ৭
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার লাকসামে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং হতাহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলেই দুই নারী নিহত হন।
নিহতরা হলেন- উপজেলার মরহুম মোবারক হোসেন মুব্বা মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬৫) ও তার বড় বোন একই উপজেলার গাজিমুড়া চাড়াবাড়ীর মরহুম আবুল খায়েরের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০)।
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের মেলান্দহে সিএনজির চাপায় মাইশা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ এলাকার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই শিশু মালঞ্চ বজরদ্দিন পাড়ার হাফিজুরের মেয়ে।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মিনি ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে কনক বড়ুয়া (৪০) নামে একজন সিএনজিচালক নিহত হয়েছেন এবং শিশুসহ আহত হয়েছেন সাতজন। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আধুনগর মাদরাসা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কনক বড়ুয়া উপজেলার আধুনগর মছদিয়া বড়ুয়া পাড়া এলাকার রমেশ বড়ুয়ার সন্তান। আহতরা হলেন যথাক্রমে উপজেলার আধুনগর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী রাস্তা এলাকার হোসনে আরা বেগম (মা), নাজমুল হুদা (৫৭), রোজা (১০ মাস), লিলি আকতার (চাচি), রোমাইছা (৫ বছর), কানিজ ফাতেমা (৩৪) তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং মিনি ট্রাকের হেলপার মো: হাসান (১৭)।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইফতার আনতে গিয়ে মিনিট্রাক চাপায় পিষ্ট হয়ে বাবার সামনে ইশফা আক্তার (৫) নামে এক শিশু প্রাণ হারাল। বৃহস্পতিবার ইফতারির কিছু আগে উপজেলার সরল জালিয়াঘাটা মুন্সীহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইশফা আক্তার স্থানীয় হাফেজ আমান উল্লাহর মেয়ে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাবার সাথে ইফতার আনতে সড়ক পার হয়ে দোকানে যাওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি মিনিট্রাক ইশফাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মিরসরাইয়ে বিএসআরএমের স্ক্র্যাপ বোঝাই লরির চাপায় নুরুল আলম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর কলেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নুরুল আলম উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের মৃত আলী আহমদ মিস্ত্রির ছেলে।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধ রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকামুখী লেইনে বিএসআরএমের স্ক্র্যাপ বোঝাই একটি লরি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। যেখানে দুর্ঘটনা হয়েছে তার পাশে পথচারী সেতু রয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন তার কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। নিহতের চাচাতো ভাই নুরুল মোস্তফা বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার গফুর মসজিদে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে নিজামপুর যান। সেখান থেকে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি লরি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের জৈন্তাপুরে দায়িত্ব পালনকালে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশের এক উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো এক এএসআই আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনাটি ঘটে উপজেলার দরবস্ত এলাকায়। জানা গেছে জৈন্তাপুর মডেল থানায় কর্মরত এএসআই সোহেল রানা ও এএসআই আতিকুর রহমান থানার বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের দিকে যাচ্ছিলেন। টেংরা বারাইকান্দি এলাকায় এসএসকেএস ক্লিনিকের কাছে যাওয়ার পর সিলেটগামী একটি বালুবাহী ট্রাক (রেজি: চট্ট মেট্রো-ট-১২-০৯৯২) পেছন দিক থেকে তাদের মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তারা আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওসমান গনি-সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এএসআই আতিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে এএসআই আতিকুর রহমান মারা যান।