চাঁদাবাজি-দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত পাহাড় অমীমাংসিত ভূমি জটিলতা

Printed Edition

এস এম মিন্টু পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে

  • চাঁদার অর্থ আদায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে
  • ছয় মাসে ১৬ খুন, ১৫২০ চাঁদাবাজির অভিযোগ
  • পার্বত্যাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে রানী ইয়েন ইয়েন

প্রায় বিশ বছর যাবৎ তিন পার্বত্য জেলা থেকে গাছ কিনে তা বিক্রি করে আসছেন এক বাঙালি ব্যবসায়ী। তার ভাষ্য- এখানে ব্যবসা করতে হলে আঞ্চলিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে চাঁদা দিতে হয়। তিনি নিজে প্রতি সিএফটি কাঠের জন্য জনসংহতি সমিতির সদস্যদের (জেএসএস, সন্তু লারমা) দেন ৬০ টাকা ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যদের দেন ৫৫ টাকা। তিনি জানান, গরু প্রতি চাঁদা দিতে হয় ৭শ’ থেকে এক হাজার টাকা। এভাবে প্রতি বছর তিন পার্বত্য জেলা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চাঁদা তুলছে হাজার কোটি টাকা। এই চাঁদার অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। ওই চাঁদার অর্থের কিছু অংশ দিয়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারত ও মিয়ানমার থেকে ভারী অস্ত্রের কিনে মজুদ বাড়াচ্ছে।

তবে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত থেকে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি রক্ষা পেলেও প্রায় সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যদের। এখন পর্যন্ত পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গুলি ও আক্রমণের শিকার হয়ে ২৭১ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।

এ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন জেলায় চাঁদাবাজি ও দ্বন্দ্বের জেরে প্রায়ই রক্তাক্ত হয় পাহাড়। গত ছয় মাসে ১৬টি হত্যাকাণ্ড এবং ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটি বলছে, এই সময়ে পাহাড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে এবং শান্তি ফেরাতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছে তারা। পরিসংখ্যানটি সামনে আসার পর পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আঞ্চলিক সশস্ত্র রাজনীতি ও চাঁদাবাজির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অপর দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ভূমি মালিকানা জটিলতা, ঐতিহাসিক সনাতন ও আধুনিক আইনের বিরোধ এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সঙ্কটের কারণে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত ও সহিংসতা ঘটে। ভূমি অধিকারের এই সঙ্কট স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

চাঁদাবাজিই সহিংসতার মূল উৎস : সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ এসেছে। একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজিই বড় সমস্যা এবং অঞ্চলটিতে যত সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তার মূলে রয়েছে এই চাঁদাবাজি। মূলত পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর সঙ্ঘাত নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

জনসংহতি সমিতি (জেএসএস, সন্তু লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যকার আধিপত্যের লড়াই দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির রেখেছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৮ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত অন্তত ২৮৭ জন ইউপিডিএফ সদস্য জেএসএসের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির নিজস্ব হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও এই তালিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এর বাইরে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুই সংগঠনের সশস্ত্র সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ির পানছড়িসহ একাধিক এলাকায় সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সেনাবাহিনীকে অভিযান চালিয়ে ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে হয়েছে।

উপেক্ষিত স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠী : আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর এই আধিপত্যের লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ বাসিন্দা পাহাড়ি ও বাঙালি নির্বিশেষে। তবে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বসবাসকারী ব্যবসায়ী, কৃষক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে হুমকি, অপহরণ এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়তে হয় তাদের।

পিসিএনপির দাবি করা ১৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনার একটি বড় অংশ বাঙালি অধ্যুষিত বাজার ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। স্থানীয় বাঙালি নেতাদের অভিযোগ- প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ নিয়মিতই উপেক্ষিত থাকে আর আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বক্তব্য নিয়ে প্রশাসনের সতর্কতা : এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায়ের স্ত্রী রানী ইয়েন ইয়েনকে নিয়ে বিতর্ক। গত ৬ এপ্রিল রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রানী ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করা হয়। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, তিনি পাহাড়ি সংগঠনগুলোর সদস্যদের সংগঠিত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সাথে জড়িত, যা পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল করে তুলছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতেই তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন এবং নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিঠি পাঠানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ। অন্য দিকে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত রানী ইয়েন ইয়েন এর আগে আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও মনোনীত হয়েছিলেন, যা বিষয়টিকে আরো বিতর্কিত করে তুলেছে। প্রশাসনের অভিযোগ ও রানী ইয়েন ইয়েনের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে পাহাড়ের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেয়া যেকোনো বক্তব্য যে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বলা যায়।

ভারত থেকে আশ্রয় ও অস্ত্রের জোগান পেয়ে পাহাড়ে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী তৎপরতা : পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর মেঘের মিতালী যে কাউকেই মুগ্ধ করে। অথচ এই রূপসী পাহাড়ের বুকের গভীরে দীর্ঘদিন ধরে জমে রয়েছে এক ভীতি ও আতঙ্ক, যার পেছনে কাজ করছে অবৈধ অস্ত্রের দাপট আর অস্থিতিশীলতার এক অন্ধকার অধ্যায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পুরো দেশ যখন পাহাড়ে শান্তির স্থায়ী সূচনার প্রত্যাশা করছিল, ঠিক তখনই সেই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে জন্ম নেয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বরে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিসিপির সাবেক সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসাকে প্রধান করে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই সংগঠনটির। গণতান্ত্রিক অধিকার ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের বুলি ছড়িয়ে এটি যাত্রা শুরু করলেও বাস্তবিক অর্থে পথচলার শুরু থেকেই সংগঠনটি বেছে নেয় অসাংবিধানিক ও সশস্ত্র সঙ্ঘাতের পথ।

পাহাড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং বিশাল সামরিক ব্যয়ের রসদ জোটাতে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই গড়ে তোলে চাঁদাবাজির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি ব্যবসায়ী, কাঠ-বাঁশ, ঠিকাদার, পরিবহনচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর সবাইকেই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। এই চাঁদাবাজির বার্ষিক অঙ্ক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা পরে ব্যবহৃত হয় ভারতে আলিশান জীবন, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনায়। পাহাড়ি জনগণের অধিকার রক্ষার কথা বলে সংগঠনটি কাজ শুরু করলেও তাদের প্রকৃত সন্ত্রাসী চেহারা উন্মোচিত হয় ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। যখন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডার অর্থে পরিচালিত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তিন ইউরোপীয় কর্মকর্তা অপহৃত হন। কেমসেক্স ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তারা এই অপহরণের শিকার হন। সে সময় দেশ ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল ঘটনাটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করার পর প্রায় তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে গভীর ষড়যন্ত্র ইউপিডিএফ লুকিয়ে রেখেছিল, সেটি প্রকাশ পায় সেনাকর্মকর্তা হত্যার মধ্য দিয়ে। ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর নানিয়ারচর বগাছড়িতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত মোতাবেক শান্তি-সম্প্রতি রক্ষায় এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নুরুল আলম গাজী।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ বছর ধরে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ইউপিডিএফের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে অন্তত ১৭৪ জন নিরপরাধ বাঙালি ও পাহাড়ি নাগরিককে জীবন দিতে হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো কয়েক শ’ মানুষ। এ ছাড়া ২৭৮টিরও বেশি অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৩৫০ জন সাধারণ মানুষ তাদের শিকার হয়েছেন।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ভারতের মিজোরামের আইজল ও মামিত জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে বিএসএফ ও মিজোরাম পুলিশ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির বাসিন্দা আপন চাকমা, নিহার রঞ্জন চাকমা ও মনি কারবারী চাকমা নামের তিনজন সশস্ত্র ইউপিডিএফ ক্যাডারকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যে গহিন জঙ্গল থেকে ১ হাজার ৭৯৯ রাউন্ড তাজা গুলিসহ দু’টি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ-মিজোরাম সীমান্ত ব্যবহার করে ইউপিডিএফের একটি সুসংগঠিত অস্ত্র পাচার ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দীর্ঘ দিন ধরে চলমান রয়েছে। ভারতের মাটিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠার নেপথ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্থায়ী অস্থিতিশীল রাখার কোনো কৌশল কাজ করছে কি না? সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে ইউপিডিএফের গোপন আস্তানাগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র, গোলা বারুদ, দেশবিরোধী বইপত্র, ম্যাপ এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত নানা আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করেছে।

সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার : চট্টগ্রামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক সংলাপে অংশ নেয়া বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা জোরদারে রাজনৈতিক দলগুলোকে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে এবং এটি তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও স্থান পাওয়া জরুরি। সংলাপে উপস্থিত বক্তারা সন্ত্রাস, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসংখ্যা-সাম্যের ভিত্তিতে পদ বণ্টন ও উন্নয়ন বরাদ্দে সামঞ্জস্য আনার সুপারিশ করেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহারের সুযোগে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতার প্রভাবও পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র বলছে, চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক আধিপত্যের লড়াই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত বক্তব্য এবং স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা এই তিনটি বিষয় একে-অপরের সাথে জড়িয়ে গেছে। প্রশাসনের কড়া বার্তা ও বিশ্লেষকদের সুপারিশ সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।