ইরানে আটকেপড়া বাংলাদেশীরা
দ্বিতীয় দেশের মাধ্যমে স্বদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে
Printed Edition
ইরানে যুদ্ধের কারণে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তেহরানের বাংলাদেশী দূতাবাস গতকাল সোমবার থেকে তৎপরতা শুরু করেছে। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় আকাশ পথে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায়, স্থলপথে ইরান সীমান্তবর্তী দ্বিতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে বিমানযোগে তাদের স্বদেশে ফেরানোর তৎপরতা চালানো হবে বলে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মনজুরুল করিম। এ জন্য ভাবা হচ্ছে, ইরানের প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের কথা। এ পরিকল্পনা সফল করতে হলে প্রথমেই কাক্সিক্ষত দেশে ঢোকার জন্য বাংলাদেশীদের বৈধ ভিসা জোগাড় করতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়ে দূতাবাস পর্যায় থেকে যোগাযোগ করার কাজ চলছে।
তেহরানের সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ভেতরেই কোনো নিরাপদ স্থানে, অর্থাৎ যে এলাকায় আশপাশে কোনো সামরিক বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নেই সেখানে বাংলাদেশীদের সরিয়ে নেয়ার কথাও দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমানে আড়াই হাজারের কিছু বেশি বাংলাদেশী ইরানে বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫০০ ব্যক্তি ইরানি-দুহিতা বিয়ে করে দেশটিতে গত তিন দশক বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। হাতেগোনা হলেও দু-একজন বঙ্গ-কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানি স্বামীর ঘর করছেন। এ শ্রেণীর বাংলাদেশীদের নিজ দেশে ফেরার কোনো তাগিদ নেই। এ দিকে, ৮০০ থেকে এক হাজার বাংলাদেশী নাগরিক একদশক বা তার থেকে বেশি সময় ধরে ধরে অবৈধভাবেই ইরানে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাদেরও স্বদেশে ফিরে আসার কোনো ইচ্ছা নেই।
তেহরান আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল কলেজ, কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশটির অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই শ’র কিছু বেশি ছাত্র পড়ালেখা করছেন। তাদের অনেকের যুদ্ধ অবস্থার কারণে ইরান থেকে দেশে ফেরার জন্য মন কাঁদছে।
এ দিকে, আদম বেপারির ফাঁদে পড়ে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে নিয়ে বা সংযুক্ত আমিরাতের নামে অন্তত ১০০ বাংলাদেশী ইরানে আটকা পড়েছেন। সব ঠিকঠাক মতো চললে, এদের মধ্যে ২৮ জনের গত ১৩ তারিখে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরাইলের হামলায় তাদের সে সম্ভাবনা পুরোই ভেস্তে গেছে।
পর্যটন, ব্যবসা এবং চিকিৎসা-পর্যটনের সূত্রে প্রায় ৫০/৬০ জন বাংলাদেশী ইরানে আটকা পড়ে গেছেন। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের কর্মী এবং ফার্মাসিস্টদের মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনের পরিবারও ইরানে রয়েছেন। এ দলটি তাদের নিরাপদে তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দূতাবাসের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। মৌখিকভাবে এ কথা একজন ব্যক্ত করেছেন।
এ দিকে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে আল্লাহর অসীম করুণায় এ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী ক্ষতিগ্রস্ত হননি বলে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে সরকারি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মীরা সবাই গতকাল পর্যন্ত নিয়মিত অফিস করেছেন। তবে প্রয়োজনে বিকল্প অফিস করার কথাও ভাবা হচ্ছে। এই বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে- জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত করোনা বিশ্বমারির দিনগুলোতে তার সফল মহড়া হয়ে গেছে। নেহাৎ প্রয়োজনীয় কয়েকজন কর্মী পর্যায়ক্রমে দফতরে হাজির থাকবেন। বাকিরা বাসা থেকে অফিসে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া ইসরাইল ইরানে হামলা চালাতে পারে এমন কোনো আভাস তেহরানের কূটনৈতিক মহল টের পেয়েছিল কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে একটি সূত্র বলে, আগে কোনোভাবেই কিছুই আঁচ করা যায়নি। কূটনৈতিক মহল তো দূরের কথা সামরিক মহলও কোনো আভাস পায়নি।
এদিকে, যুদ্ধের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, রাজধানী তেহরানে হামলার ব্যাপকতা বাড়ছে। রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ১০০ লক্ষ্যবস্তুতে ইহুদিবাদী ইসরাইল হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধের শেষ কবে হতে পারে সে ব্যাপারে কিছ্ইু অনুমান করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
সব কিছু মিলিয়ে ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ইরান, বিশেষ করে তেহরানের বাংলাদেশী প্রবাসীদের অনেকেই দিন গুজরান করছেন বলে জানা গেছে।