পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে

রাঙ্গামাটিতে গণসমাবেশে উষাতন তালুকদার

Printed Edition

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নেতা ও রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার। চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেএসএস রাঙ্গামাটি জেলা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।

চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। উষাতন তালুকদার বলেন, দেশের সাধারণ নির্বাচনের তফসিল শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জেএসএস অংশ নেবে। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম আরো এগিয়ে নেয়া হবে।

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন জরুরি। জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে পরিষদগুলো আরো গণমুখী ও কার্যকর হবে।

গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডা: গঙ্গা মানিক চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ভবতোষ দেয়ান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুমেন চাকমা এবং জেএসএস রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা।

আঞ্চলিক পরিষদের পৃথক সভা

একই দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্না চাকমা। সভায় বক্তব্য দেন শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, ফদাং তাং রাংলাই, হাজী মো: কামাল উদ্দিন, নুরুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও জেএসএসের তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। ২৮ বছর পরও পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পাহাড়বাসীর জন্য হতাশাজনক। বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পাহাড়ি ও বাঙালি স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে আস্থা ও ঐকমত্য সৃষ্টিই প্রধান শর্ত। সভায় স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারী, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।