৩ বাসের সংঘর্ষে নিহত চালক হেলপার, অন্যত্র আরো ৪ জন
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুই স্থানে এনা বাসের সাথে পৃথক সংঘর্ষে শ্যামলী বাসের চালক-হেলপার এবং এক পিকআপভ্যান চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন।
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর নামক স্থানে বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহতসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কুরুয়া গ্রামের ময়না রবিদাসের ছেলে বকুল রবিদাস (২৮) ও শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার দশাই হাওলাদার গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মজিবুর রহমান (৫৫)। আহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তবে এনা বাসের অজ্ঞাতনামা চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৫৬০) সাথে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রা-ব-১৪-৪২৮৬) দয়ামীর মাদরাসার কাছে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় এনা বাসের পেছনে থাকা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কা লাগে। এতে শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার মজিবুর রহমান ও হেলপার বকুল রবি দাস নিহত হন। দুর্ঘটনায় এনা ও শ্যামলী বাস দু’টির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের ময়না তদন্তের জন্য এবং আহতদের চিকিৎসা দিতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এনা পরিবহনের একটি বাস ও একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি রাকিব পিকআপভ্যানের চালক। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টার সময় ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বুরাইগাঁও গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এনা পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খালে পড়ে যায় এবং পিকআপ ভ্যানটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি বাস সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক নিহত হন।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাত থেকে আটজন বিভিন্নভাবে আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর দু’জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে এনা পরিবহনের চালকও রয়েছেন। নিহত পিকআপ ভ্যানের চালক রাকিবের বাড়ি যশোরে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি নবীনগর পৌর এলাকার পালপাড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় মাছুদ (২৪) নামে আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের দোলাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা প্রান্তিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই শামীম নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন আর আহত ব্যক্তিকে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে ভ্যানগাড়ির বাঁশের সাথে ধাক্কা লেগে এক মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তার নাম মো: কামাল হোসেন (৪৫)। তিনি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর (ঢলুয়া পাড়া) গ্রামের মো: হাতেম আলীর ছেলে, পেশায় বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের কর্মী ছিলেন।
জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মধুপুর থেকে ঘাটাইল যাওয়ার উদ্দেশ্যে কামাল হোসেন মোটরসাইকেলে উপজেলার গাংগাইর গোমা বাস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে সামনে থাকা অটোভ্যান-ভর্তি বাঁশের সাথে ধাক্কা লাগে। ভ্যানে থাকা বাঁশের সরু অংশ মাথা বরাবর ঢুকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলটির উপর দিয়ে গাড়ি উঠে গেলে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় মিনিবাসের ধাক্কায় দুলা মিয়া (৫৫) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলার ঝোপগাড়ি দোয়েল পাম্পের সামনে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুলা মিয়া বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝোপগাড়ি বড় কুমিড়া গ্রামের মরহুম জব্বার মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে দুলা মিয়া মোটরসাইকেলে চারমাথা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে ঝোপগাড়ি দোয়েল পাম্পের সামনে রংপুর হাইওয়ে সড়ক পারাপারের সময় চারমাথা থেকে ছেড়ে আসা একটি মিনিবাস তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানায়, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তার নাম মোহাম্মদ রফি। সে চিরিরবন্দর আমেনা বাকি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। গত ১২ জানুয়ারি অটোরিকশা-ট্রাক্টর সংঘর্ষে একই স্কুলের খালিদ হাসান ও রাফিসহ চারজন আহত হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথে খালিদ হাসান মারা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত চারজনের মধ্যে রাফিকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় ও সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে সে মারা যায়। গতকাল বাদ আসর বিন্নাকুড়ির হাজীপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কাঠভর্তি ভ্যান উল্টে ভ্যানচালক আব্দুল (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি বাশতৈল তেলিপাড়া এলাকার আক্কেল আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল শনিবার (১৭জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আব্দুল চেরাই করা কাঠ ভ্যানে নিয়ে পাথরঘাটা যাওয়ার পথে আবাদ বাজারের পূর্ব পাশে খানাখন্দ রাস্তায় তার ভ্যান উল্টে যায়। এতে কাঠসহ ভ্যানের নিচে পড়ে সে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি উপজেলার বাশতৈল এলাকায় ঘরজামাই থেকে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বাশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।