রূপগঞ্জে নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা

অপরাধীদের হাতে সাবমেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল

Printed Edition

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও নির্বাচনের দিন অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।

জানা যায়, উপজেলায় বৈধ অস্ত্র রয়েছে ১১০ জনের কাছে। এর মধ্যে ৬০ জনের অস্ত্র থানায় জমা রাখা হয়েছে এবং একটি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, যা নির্বাচনের সময়ে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়রা জানায়, আগে দেশীয় ওয়ান শুটার বা পাইপগান ব্যবহারের প্রবনতা থাকলেও এখন অপরাধীদের হাতে বিদেশী পিস্তল রয়েছে, এমনকি সাব-মেশিনগানের মতো অস্ত্রও দেখা যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ও জলপথ ব্যবহার করে এসব অস্ত্র জেলায় প্রবেশ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তা হাতবদল হয়ে ক্যাডার বা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাছে চলে যায়। অস্ত্র ভাড়া দেয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয়। তারা জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের হাতেও অস্ত্রের উপস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী গ্যাং লিডারদের কাছে অস্ত্র এখন প্রভাব বিস্তারের প্রতীক হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, বালু নদী ও মেঘনা নদী বেষ্টিত অঞ্চলগুলোকে অবৈধ অস্ত্রের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জলপথে ট্রলারযোগে অস্ত্র এনে চরাঞ্চল, লেক বা ইটভাটার পাশে লুকিয়ে রেখে পরিস্থিতি বুঝে সেগুলো বের করে ব্যবহার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে রূপগঞ্জে ১১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্ত্র মামলার প্রায় ৭০ শতাংশ আসামি জামিনে বেরিয়ে আসে। প্রমাণের অভাব ও সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে অনেক মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। রূপগঞ্জ থানার ওসি মো: সবজেল হোসেন বলেন, বর্তমানে কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। চলতি মাসেই যৌথবাহিনীর অভিযানে কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্ব পালনে আছেন আটজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতিটি কেন্দ্রের পাঁচ মিনিটের দূরত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত আছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত।