চরাঞ্চলে আগাম আলু-মরিচ-ভুট্টা চাষে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন কৃষকরা
Printed Edition
মো: মুরাদ হোসেন মণ্ডল উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
তিস্তা নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের উলিপুরে এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন চরাঞ্চলের মানুষ। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কয়েক দফা প্লাবনে নষ্ট হয় তাদের আবাদ করা বিভিন্ন শাকসবজি। তবে পানি নামার সাথে সাথেই তিস্তায় জমে থাকা পলি আবারো উর্বর করেছে চরাঞ্চলের জমি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা আগাম আলু, মরিচ ও ভুট্টার চাষ শুরু করেছেন। ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ দেখে আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার ভরা মৌসুমেই আগাম জাতের আলু, মরিচ ও ভুট্টা রোপণ করা হয়েছে। আলু ও মরিচের বাজারদর শুরু থেকেই চড়া। ফলে ফলন ভালো হলে আগের ক্ষতির বড় অংশই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় পাইকাররা ক্ষেতেই পণ্য কিনে নেয়ায় কৃষকরা বেশ স্বস্তিতে আছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এক হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে সবজি-আবাদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অধিকাংশ ক্ষেতেই আলু ও মরিচের চাষ চলছে পুরোদমে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে।
উলিপুরের বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নসহ গোড়াইপিয়ার, দড়িকিশোরপুর, নাগড়াকুড়া, কদমতলা, টিটমা, খারিজা লাটশালার বিস্তীর্ণ চরজমিতে এখন আলু, মরিচ ও ভুট্টার আবাদ জমে উঠেছে। কোথাও মরিচ তোলা শুরু হয়েছে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আগাম আলু ওঠানো হবে। অনেকেই নিজের জমি না থাকায় লিজ নিয়ে চাষ করছেন।
চর গোড়াইপিয়ারের মরিচচাষি সাহেব আলী জানান, বন্যায় অর্ধেক চারা নষ্ট হলেও অবশিষ্ট গাছগুলোতে বর্তমানে প্রচুর মরিচ ধরেছে। এরই মধ্যে তিন থেকে চার মণ মরিচ বিক্রি করে ১২ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সামনে আরো ১২-১৫ মণ তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। বাজারদর ভালো থাকলে ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। চর জুয়ার সতরা এলাকার কৃষক আলমগীর মিয়া বলেন, প্রায় ১০ একর জমিতে আগাম আলুর আবাদ করা হয়েছে। একরপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। একরপ্রতি ২১০ মণ উৎপাদন হলে মোট আয় দাঁড়াতে পারে ৩০-৪০ লাখ টাকা। আলুক্ষেতের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি ব্যাপক লাভের আশা করছেন।
রফিকুল ইসলাম, মোকলেছুর রহমান ও শফিকুল ইসলামসহ একাধিক কৃষক জানান, চরাঞ্চলে আলু ও মরিচ লাভজনক ফসল। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এবার আবাদ বাড়ানো হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসেন বলেন, তিস্তায় বন্যার ক্ষতি হলেও পানি নেমে যাওয়ার পর পলি পড়ে জমি আবার উর্বর হয়েছে। কৃষকরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মৌসুমে পর্যাপ্ত ফসল পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফিরে আসবে।