পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপি, এনসিপি ও চরমোনাইয়ের ত্রিমুখী লড়াই
Printed Edition
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দীর্ঘ দিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়া সাধারণ মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: রুহুল আমিন দুলাল (ধানের শীষ), ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) ড. শামীম হামিদী (শাপলা কলি), চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ডা: রুস্তম আলী ফরাজী (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) মনোনীত আ. করিম শিকদার (মোটরগাড়ি), জাতীয় পার্টি মনোনীত মাশরেকুল আজম রবি (লাঙল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার হাফেজ মো. তৌহিদুজ্জামান (ফুটবল)।
সরেজমিন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে। ভোটের মাঠে এই তিন পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া।
ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মো: রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘ দিনের পরিচিত মুখ। অতীতে তিনি একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রুহুল আমিন দুলাল। এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। নিজস্ব সংগঠিত কর্মীবাহিনী না থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় তিনি আলোচনায় রয়েছেন। তরুণ ভোটারদের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার তাদেরকে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’
চরমোনাই পীরের অনুসারী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা: রুস্তম আলী ফরাজি চরমোনাই পীরের অনুসারীদের সমর্থনের কারণে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। ফরাজি বলেন, ‘অর্থ বা ক্ষমতার রাজনীতিতে আমি বিশ্বাসী নই। উন্নয়ন ও জনগণের ভালোবাসাই আমার মূলশক্তি।’
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, পিরোজপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪১ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার এক লাখ ১৯ হাজার ৩১৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন।