পতনের মধ্য দিয়েই শেষ হলো পুঁজিবাজারের সপ্তাহ

Printed Edition
Bus-1

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সপ্তাহটির শেষ কার্যদিবসও শেষ হলো পতনের ধারাবাহিকতায়। গতকাল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সবগুলো সূচক কমেছে। এর আগে টানা তিন কার্যদিবস ধরে দরপতনের শিকার ছিল বাজার। যদিও গতকাল দিনের শুরুতে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে দিনশেষে বিক্রয়চাপ জোরালো হওয়ায় সেই প্রবণতা স্থায়ী হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে। আগের দিন সূচকটির অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৮৫৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট। দিনের শুরুতে সূচকটি ছিল ঊর্ধ্বমুখী এবং প্রথম ১০ মিনিটেই প্রায় ১৩ পয়েন্ট উন্নতি রেকর্ড করে। তবে এরপরই বিক্রয়চাপ তৈরি হলে বাজার স্বাভাবিক গতি হারাতে থাকে। দুপুর ১২টার আগেই সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৮২৮ পয়েন্টে, এ সময় সূচকের অবনতি ঘটে ২৫ পয়েন্টেরও বেশি। পরে সাময়িকভাবে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং বেলা পৌনে ১টার দিকে হারানো পয়েন্টগুলো পুনরুদ্ধার করে। কিন্তু এরপর আবার বিক্রয়চাপ জোরালো হলে দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ২২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট হারায়। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করে। এ দিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৫ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে যায়। এ ছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ৯৩ দশমিক ১৪ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স সূচক ৩৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হারায়।

এ দিকে পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ১২টি মিউচুয়াল ফান্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তদন্তে নেমেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ুণœ এবং আইন লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিএসইসি সম্প্রতি ছয়টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে জারি করা নতুন আদেশে আগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন এই ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুরো তদন্ত কার্যক্রমের সমন্বয় করবেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান।

এর আগে বিগত সরকারের সময়ে আইন অমান্যকারী মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে শৈথিল্য দেখা গেলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে বিএসইসি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে তদন্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

তদন্ত পরিচালনার জন্য গঠিত প্রথম কমিটি অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আমদাদুল হকের নেতৃত্বে এবি ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড এবং রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের নিজস্ব কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে। দ্বিতীয় কমিটি উপপরিচালক মো: রফিকুন্নবী ও রানা দাসের নেতৃত্বে পিএইচপি ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং পপুলার লাইফ ১ম মিউচুয়াল ফান্ড তদন্ত করবে। তৃতীয় কমিটি যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীনের নেতৃত্বে ফার্স্ট জনতা ব্যাংক ১ম ও ইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে। চতুর্থ কমিটি উপপরিচালক মো: মওদুদ মোমেনের নেতৃত্বে এক্সিম ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের আর্থিক অসঙ্গতি অনুসন্ধান করবে।

এ ছাড়া পঞ্চম কমিটিতে যুগ্ম পরিচালক অনু দে ও মো: সাগর ইসলাম আইএফআইসি ব্যাংক ১ম ও ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের অনিয়ম খুঁজে দেখবেন। সর্বশেষ ষষ্ঠ কমিটি রেস ফাইন্যান্সিয়াল ইনকুশন ও রেস স্পেশাল অপরচুনিটি নামে দু’টি ওপেন-এন্ডেড ইউনিট ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করবে।

বর্তমানে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মোট ১২টি ফান্ড পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ১০টি তালিকাভুক্ত কোজএন্ড ফান্ড এবং দু’টি ওপেনএন্ড ফান্ড রয়েছে। এসব ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড বা স্বার্থের বিপরীতে কোনো বেআইনি কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা নিরূপণ করাই তদন্ত কমিটিগুলোর প্রধান লক্ষ্য।

লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি মুন্নু ফেব্রিক্সের। কোম্পানিটির ৩৭ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার আট কোটি ২১ লাখ টাকায় হাতবদল হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যার ১৭ লাখ ৪৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে আট কোটি ১৩ লাখ টাকায়। লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাইন ফুডস, লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সায়হাম কটন মিলস। এ ছাড়া গতকালই প্রথমবারের মতো একটি সরকারি বন্ড ডিএসইর শীর্ষ লেনদেনে স্থান পায়।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের রহিমা ফুড করপোরেশন, যার শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বঙ্গজ লিমিটেড, যার দর বেড়েছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্য দিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাতের আরএসআরএম স্টিলস, যার শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।