ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ জন
Printed Edition
রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আসনে এবার মূল লড়াইটি হবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত তরুণ প্রার্থীর মধ্যে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তফসিল ঘোষণার পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। ভোটারদের মন জয় করতে চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের অলিতে গলিতে চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময়। যদিও এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কার্যত মাঠে নেই, তবে এতে বিএনপির একচেটিয়া সুবিধা নিশ্চিত হয়নি; বরং জামায়াতে ইসলামীর আগাম প্রস্তুতি ও সংগঠিত প্রচারণা নির্বাচনী সমীকরণকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ঘেরা জনপদে দলটির নেতাকর্মীদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্য দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে সাংগঠনিকভাবে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছে। ফলে দুই দলের পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় চকরিয়া-পেকুয়া আসন এখন বেশ সরব।
এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী, এ বি পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যটকবিষয়ক সহসম্পাদক অধ্যাপক এ বি ওয়াহেদ এবং গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবদুল কাদেরও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের দু’বারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে আবার সংসদে পাঠাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কক্সবাজার জেলার তরুণ ও আলোচিত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে ঘিরে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এ আসনের ভোটারদের রাজনৈতিক মানসিকতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতার পর নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে। তারা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন সেই প্রত্যাশা পূরণের একটি বড় সুযোগ।
উল্লেখ্য, অতীতে কক্সবাজার-১ আসন থেকে মাত্র একবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারো দলটি বিজয়ের লক্ষ্যে সংগঠিতভাবে মাঠে নেমেছে। অন্য দিকে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইব্রাহিম। তবে জুলাইবিপ্লবের পর থেকে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী বর্তমানে পলাতক বা নিষ্ক্রিয় থাকায় দলটির দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি জাফর আলম গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে কক্সবাজার-১ আসনে এবারের নির্বাচন যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে, তা এখনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।