সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী
বিদেশে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০ জুলাইযোদ্ধা ফিরেছেন ১০২ জন
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি জানিয়েছেন, গুরুতর আহত ১৫২ জন জুলাইযোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৫০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
রোকেয়া বেগম প্রশ্নে জানতে চান, সারা দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আহত প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধার চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও মাসিক ভাতার বিষয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশ মিশন বিদেশে চিকিৎসাকার্যক্রম তদারকি করছে।
পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আগ্রহী তিন হাজার ২৪১ জনের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য এক হাজার ৯৩৭ জনের তালিকা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মাসিক সম্মানী ভাতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত মোট ১৪ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৪৪ জনকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণীভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেয়া হচ্ছে। এর আওতায় ক-শ্রেণীর প্রতিজন মাসে ২০ হাজার টাকা, খ-শ্রেণীর প্রতিজন ১৫ হাজার টাকা এবং গ-শ্রেণীর প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। অবশিষ্ট জুলাইযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।