আখা মানুষ

Printed Edition
nittodin--1
আখা মানুষ

নিপা পারভীন

জানো, এ জনগোষ্ঠীর উদ্ভব প্রায় এক হাজার পাঁচ শ’ বছর আগে, মঙ্গোলিয়ায়। এরপর এরা অভিবাসী হয় চীনে; সেখান থেকে মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডে। কিছু চলে যায় কম্বোডিয়ায়। কখন এরা অভিবাসন শুরু করে তা স্পষ্ট নয়। তবে ২০ শতকের প্রথম দিকে এদের কিছু থাইল্যান্ডে এসে বসবাস শুরু করে।

বলছি ‘আখা’দের কথা । এ মানুষের বসবাস চীন, মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডে।

আখাদের ভাষার নামও আখা। এটি তিব্বতি-মিয়ানি ভাষা পরিবারের লোলিশ (য়ি) শাখার অন্তর্ভুক্ত। লিসু ও লাহু ভাষার সাথে এ ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে। কিছু আখা লাও ও থাই ভাষায়ও কথা বলে।

এ জনগোষ্ঠী সাধারণত বাঁশের ঘরে বাস করে। পাহাড়ি এলাকায় কাঠের খুঁটিতে একটু উপরে এ ঘর তৈরি করা হয়। এদের কুঁড়েঘর বা কুটিরগুলো লিঙ্গের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়- এক পাশে থাকে নারীদের এবং অপর পাশে পুরুষদের।

পাহাড়-পর্বতে ধান, শস্য ও সয়াবিন উৎপাদনে আখারা দক্ষ। এরা চিরে ফেলা ও পোড়া পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে, যা প্রায়ই প্রাচীন বন, দেশজ প্রাণী ও মৃত্তিকার জন্য ক্ষতিকর।

আখারা দক্ষ শিকারি। মাঝে মাঝে এদের তালিকায় বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীও থাকে।

কিছু আখা অর্থ উপার্জনের জন্য আফিম চাষ করত। কিন্তু আজকাল এরা পর্যটন শিল্পের দিকে ঝুঁকেছে। এ শিল্প বেশ বিকশিত।

আখা-সমাজে লোক ধর্ম বা সর্বপ্রাণবাদ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচলিত।

আখারা সরল, বন্ধুবৎসল ও কঠোর পরিশ্রমী। গুরুজনদের প্রতি এরা শ্রদ্ধাশীল। পূর্বপুরুষদের এরা ভক্তি করে।

লৌকিক বিশ্বাস অনুসারে আখারা গ্রামে কাঠের সদর দরজা (গেট) তৈরি করে। এগুলোতে অলঙ্কার করা হয় খোদাই করে। কথিত আছে এগুলোতে মুরব্বিদের আত্মা বাস করে।

আখা নারীরা মাথায় বিশেষ ধরনের পোশাক পরে। এতে ঝুলানো থাকে রুপার অলঙ্কার কিংবা সাদা কাপড়ের ঝালর। মাথার এ পোশাক বেশ আকর্ষণীয়।

আখা জাতির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার।