সেতুতে উঠতে বালুর বস্তার সিঁড়ি

Printed Edition

মুহাম্মদ ফজল করিম ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুরে দীর্ঘ এক বছর ধরে সংযোগ সড়ক ছাড়া পড়ে আছে একটি নবনির্মিত সেতু। ফলে উন্নয়নের সুবিধা পাওয়ার বদলে এলাকাবাসীর জন্য এটি নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট ও অ্যাপ্রোচ রোড না থাকায় বালুর বস্তা দিয়ে সিঁড়ির মতো করে সেতুতে ওঠার ব্যবস্থা করে নিয়েছে স্থানীয়রা। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার মানুষকে সেতু পারাপার হতে হচ্ছে।

নানুপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিনাজুরি-আমতলী সংযোগ সড়কের তিনঘরিয়া পাড়া খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি দিয়ে মাইজভাণ্ডার, বিনাজুরি ও আশপাশের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রিজের দুই পাশে প্রায় চার-পাঁচ ফুট উঁচু ফাঁকা জায়গা রয়ে গেছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করে নিয়েছেন এবং এভাবেই তারা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে ওঠানামা করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এ পথে যাতায়াত করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ৭ দশমিক ৯৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা।

নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তহিদুল আলম বলেন, আগে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটি ভেঙে পড়ায় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আবু নাসের জানান, এলাকাবাসীর অসহযোগিতায় আগে কাজ করা যায়নি। বর্তমানে ইউপির সাথে সমন্বয় করে কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।