আগডুম-বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
agdum kobita
আগডুম-বাগডুম কবিতা গুলি

জীবন মানে বাউড়ি বাতাস

মাহফুজুর রহমান আখন্দ

আকাশ ছোঁয়া নয়তো সহজ

তারচে’ সহজ সফল হৃদয় ছোঁয়া

জীবন মানে বাউড়ি বাতাস

আবেগ মাখা ধোঁয়া

সেই আবেগের সবুজ মায়ায়

গোখরো সাপের ভয়

একটু ভুলে পথ মাড়ালে

আসবে পরাজয়

সেই জীবনে নেই তো আলো

চারিদিকে নিকষ কালো

তিরস্কারের তীর ধনুকে

স্বপ্ন মাটি হয়

কঠিন পরাজয়

সহজ পথে রাস্তা মাড়াও তুমি

ফলবে ফসল বারোমাসি

নিখাদ রবে সফলতার ভূমি।


নতুন সুর

গোলাম রব্বানী টুপুল

লড়াইটা আর থামাসনে তুই

ঢালিসনে আর অশ্রুজল

শোকের আঘাত শক্তি করে

কদমবাড়াহ্ চলরে চল্।

এই দেশে আর নতুন করে

দুষ্ট লোকের লালন নয়

দেশের স্বার্থ বিলীন করে

কে দেখি এই রাষ্ট্রে রয়!

বিপ্লবীদের স্বপ্ন বোনা

এই জমিনে ফুটবে ফুল

পবিত্র এই স্বপ্ন-গাছেই

ফুটবে যেন ঝুমকো দুল।

সেই ফুলেরই সুবাস ছড়ায়

মাঠ পেরিয়ে সমুদ্দুর

নতুন মানুষ নতুন দেশের

রাখাল বাজায় নতুন সুর।


পৌষ মাঘে

নাজীর হুসাইন খান

পৌষ মাঘে কনকনে শীত পরে সকালে

বলবান যুবকেও কূজো যেন অকালে

দেশ জুড়ে কুয়াশা যে পরে খুব ফাটাফাটি

চোখ খোলে দেখবে তো কত পদে হাঁটাহাঁটি।

কেউ হাঁটে কূজো হয়ে দৃষ্টিটা মাটিতে

জাম্পার ও সোয়েটার কত জামা! গা টিতে

সারা দেহ ঢেকে ফেলে শুধু চোখ খোলা থাকে

কারো গায়ে মাফলার চাদ্দর ও ঝোলা থাকে।

দেখলে তো চেনা দায়, বাবা-নানা-দাদা কার?

কারো হাত পিছনেতে যেন হাত বাঁধা তার

কেউ হাঁটে জোড়ে জোড়ে কেউ হাঁটে আস্তে

কেউ হাঁটে একা একা কেউ চাচা ভাস্তে।

কেউ হাঁটে পকেটে হাত দিয়ে নবাবের

কেউ হাঁটে এমনিতে কারো হাঁটা স্বভাবের

এই সব হাঁটাহাঁটি শীত এলে দেখা হয়

দেখে দেখে মজা হয় কবিতা ও লেখা হয়।


শিশির ভেজা সকাল

হাফিয রেদওযান

হিমেল বাতাস সকাল বেলা

শিশির বিন্দু করছে খেলা

বৈচি পাতার ফাঁকে,

সবুজ মাঠের ফসল হাসে

মুক্তোদানা ঝরে ঘাসে

মেঠো পথের বাঁকে।

টুপটুপ টুপ টিনের চালে

বন বাদারে গাছের ডালে

ঝিরঝির শিশির পড়ে,

থরথর থর সবাই কাঁপে

উষ্ণ পেতে আগুন তাপে

শীত নিবারণ তরে।

সূয্যিমামা উঠবে হেসে

সৃষ্টিকুলকে ভালোবেসে

আপন করে রাখে,

কুয়াশাতে জবুথবু

কৃষক মাঠে ছোটছে তবু

স্বপ্ন বুকে আঁকে।


আমার দেশ

সেলিম এমরাজ

এই দেশ আমাদের

অফিসের কোট পরা

মামাদের,

খেটে খাওয়া আক্কাস

সামাদের।

এই দেশ তোমাদের

অপুদের, সোমাদের

ফরিদের

ছড়া, ছবি, রূপকথা

পরিদের।

এই দেশ জারিদের

ভাটিয়ালি, সারিদের

লালনের,

ভালোবাসা, ন্যায়, নীতি

পালনের।

এই দেশ বীরদের

উন্নত শিরদের

তীতুদের,

নয় জড়, অলস আর

ভীতুদের।


আমার প্রিয় বাংলাদেশ

মিয়া ইব্রাহিম

সর্ষে ফুলের হাসির স্রোতে প্রাণটা আমার নাচছিল

সেই হাসিতে শৈশব আমার মনের বানে ডাকছিল

আমি যখন ক্ষেতের আইলে মন আনন্দে হাঁটছিলাম

মনে হলো শীত কুয়াশার জোয়ারেতে ভাসছিলাম।

কানে কানে ফুলগুলো সব যখন কথা বলছিল

তাদের সাথে মনের ভাবটা ভীষণ রকম জমছিল

মৌমাছিরা ফুলের বনে বলল ডেকে কবি যে

মধুর খোঁজে আমরা এখন ভীষণ রকম বিজি যে।

এমনি সময় গ্রামের এক কিশোর দল আসল কাছে

বলল তারা মিষ্টি রোদে হেঁটে অনেক মজা আছে

তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আমিও তখন পায়ে হাঁটি

সে যে আমার প্রিয় গ্রাম, প্রিয় আমার দেশের মাটি।

নানা রকম ফুলে ফলে শস্যে ভরা আমার দেশ

বিশ্ব সেরা ভালোবাসা নামটি তার বাংলাদেশ।


শীতের সকাল

শাহজাহান মোহাম্মদ

শীতের সকাল দূর্বা ঘাসে

শিশির জমায় মেলা

ওই সবুজের বুকের মাঝে

ঘাস ফড়িংয়ের খেলা।

শিশর মাখা আলতা পায়ে

মনময়ূরী নাচে

প্রজাপতি পাখনা মেলে

সরষে ফুলের কাছে।

অতিথি পাখিরা সব

ভাসায় প্রীতির ভেলা

গান গেয়ে যায় কৃষাণ বালক

নিত্য দুপুর বেলা।

পিঠা পুলি খেঁজুর গুড়

রসের মাখামাখি

বাংলা মায়ের শীতের সকাল

চাদরে মুড়ে রাখি।


লাল সবুজের দেশ

শাকেরা বেগম শিমু

আমার বাড়ি চায়ের দেশে সুরমা নদীর পাড়ে

সবুজ টিলার হাতছানি ভাই মন যে সদাই কাড়ে

মাঠভরা ধান সোনারোদে ঝলমলিয়ে হাসে

নদীর দুকূল জড়িয়ে থাকে স্নিগ্ধ কোমল ঘাসে।

হেথায় আছে জারুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার মেলা

নদীর ওপার সবুজ পাহাড়, পাংশু মেঘের ভেলা

ছাতিম গাছে শালিক নাচে হিজল বনের কাছে

বুলবুলিটা অবাক হয়ে তাইতো চেয়ে আছে!

বৃক্ষভরা রাঙা শিমুল দুলছে দেখো গাছে

লালপুকুরে লাফিয়ে বেড়ায় ট্যাংরা-পুঁটি মাছে

কাজলা দিঘির বুকে দেখো রাঙা হিজল ভাসে

নিতল দিঘির শীতল জলে শাপলা-কমল হাসে।

ঝর্ণা ধোঁয়া পাহাড় যেথায়, সবুজ ঘেরা বন

সেথায় সদা হারিয়ে যেতে চায় যে আমার মন

ভোরে পাহাড়-বন মাড়িয়ে সূর্য উঠে হেসে

দেখতে যদি চাওগো এসো ‘লাল সবুজের দেশে’।