সংস্কারের অপেক্ষায় ঘোড়াঘাটের ৫০০ বছরের ঐতিহ্য ‘সূরা মসজিদ’

Printed Edition

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরা মসজিদ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদ দ্রুত সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ঘোড়াঘাট-হিলি সড়কের পাশে চোরগাছা মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় স্থাপনাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে মসজিদটি পরিদর্শন করেন। তিনি ঐতিহাসিক অবকাঠামো অক্ষুণœ রেখে যুগোপযোগী সংস্কারের আহ্বান জানান। একই সাথে সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সুরা মসজিদকে ঘিরে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। কেউ একে ‘সৌর মসজিদ’, কেউ ‘সূর মসজিদ’, আবার অনেকে ‘শাহ সুজা মসজিদ’ নামেও অভিহিত করেন। স্থানীয়দের মতে, ‘সূর’ শব্দের অর্থ অপদেবতা বা জিন, জনশ্রুতি আছে, জিনেরা এক রাতে এটি নির্মাণ করে। আবার স্থাপত্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, ১৬ শতকের সুলতানি আমলে হোসেন শাহী শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়। কোনো শিলালিপি না থাকায় স্থাপত্যরীতির ভিত্তিতেই এর নির্মাণকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

মসজিদটির বাইরের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৪০ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ ফুট। চার ফুট উঁচু পাটাতনের ওপর নির্মিত এই স্থাপনায় রয়েছে বর্গাকার নামাজকক্ষ ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট বারান্দা। দেয়ালে টেরাকোটার অলঙ্করণ, পাথরের মেহরাব, খিলানকৃত প্রবেশপথ ও কোণায় কালো পাথরের মিনার স্থাপনাটি অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ না করলে ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।