পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ মানতে নারাজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

Printed Edition

পিটিআই

পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত বা একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, ভারতীয় পাসপোর্ট মূলত একটি ‘ভ্রমণ নথি’। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাতায়াত এবং বিদেশে ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়। তাই একে নাগরিকত্বের সনদ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সম্প্রতি ভারতের পাসপোর্ট ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক চলাচল এবং বিদেশে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সরকারি উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধার কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ডের মতো নথিগুলো নাগরিকত্বের প্রমাণ কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রোপটেই এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এলো। ওই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশের পাসপোর্টসেবা নেটওয়ার্ক এক দশকের ব্যবধানে প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫৪৫টিতে পৌঁছেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি লোকসভা আসনে অন্তত একটি করে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র স্থাপনের ল্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেবাকেন্দ্রগুলোতে গ্রাহকদের গড় সময় লাগছে ৪৫ মিনিটেরও কম। এ ছাড়া দুর্গম জেলাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ দল পাঠিয়ে গত বছর বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ মানুষকে এই সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে পাসপোর্ট রয়েছে। তাই শিা, চাকরি ও ব্যবসার প্রসারে এর সংখ্যা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জানানো হয়, গত বছরের মে মাস থেকে ইস্যু করা সব নতুন পাসপোর্টে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড অনুযায়ী বিশেষ ইলেকট্রনিক চিপ বা ই-পাসপোর্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এই চিপে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক ও নিরাপত্তামূলক তথ্য সংরতি থাকায় জালিয়াতি কমবে এবং বিমানবন্দরগুলোতে যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হবে। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের েেত্র ভারত বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলসহ ২৫টি দেশের সাথে মোট ২৭টি চলাচল চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে শিার্থী, গবেষক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক চলাচল সহজ হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকরা ২৭টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ, ৪৭টি দেশে ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ এবং ৬৬টি দেশে ই-ভিসার সুবিধা পাচ্ছেন। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরায় উন্নত সংস্করণের ‘ই-মাইগ্রেট ২.০’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ কর্মী সহজেই অভিবাসন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ১৭টি পাসপোর্ট অফিসে চালু হয়েছে স্বচ্ছ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। এ ছাড়া কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্কৃতি ও আইনকানুন নিয়ে বিশেষ প্রশিণ দেয়া হচ্ছে। দ কর্মীদের বিদেশি নিয়োগদাতাদের সাথে যুক্ত করতে আগামী সপ্তাহে জার্মানি, ইতালি, জাপান, রাশিয়া ও ডেনমার্কের অংশগ্রহণে একটি বড় মানবসম্পদ চলাচল ফোরামের আয়োজন করা হবে। একই সাথে সিঙ্গাপুর ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপদে পড়া বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য আইনি ও মানসিক পরামর্শ সেবা চালু করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।