তাড়াশে নিম্নমানের উপকরণে রাস্তা নির্মাণ নোটিশ দেয়ায় প্রাণনাশের হুমকি
Printed Edition
লুৎফর রহমান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি তত্ত্বাবধানে তাড়াশ-কাটাগাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুসারে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঠিকাদারের লোকজন বক্স কার্টিং, নি¤œমানের খোয়া, বালি ও ইট ব্যবহার করে কাজ করছে, ল্যাব টেস্ট ছাড়াই সাববেজে কাজ সম্পন্ন করছে, কার্পেটিং তুলে ফেলছে এবং নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে না। এতে সড়কের স্থায়িত্বে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পের তদারকিতে নিয়োজিত দুই উপ-প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম ও সুলভ কুমার ইতোমধ্যেই হুমকির কারণে বদলি হয়ে গেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ঠিকাদারকে ১৮টি কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, বরং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, তারা অংশিদারিত্বে কাজ করছেন, প্রকল্পের মূল কাজ করছেন সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব ইসলাম। তবে প্রকল্প এলাকায় তদারকি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা গেছে, কাজের মানের সাথে সংশ্লিষ্টরা সরাসরি জড়িত।
স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তবে এখনো প্রতিকার পাননি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করলে আবার ট্রেন্ডার দিতে এক বছর লাগবে, ফলে জনদুর্ভোগ বাড়বে। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্র পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকা এলোমেলো ও নিম্নমানের উপকরণে নির্মাণ কাজ চলায় স্থানীয় জনগণের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সড়কটি যথাযথভাবে নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে।