রাজশাহীতে মতবিনিময় সভায় বক্তারা

গ্রাম আদালত কার্যকর হলে কমবে মামলা জট

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমবে, পাশাপাশি স্বল্প সময় ও কম খরচে বিচার পাবে প্রান্তিক মানুষ। প্রচলিত আদালতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও শ্রম- সবই অপচয় হয়। কিন্তু গ্রাম আদালতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে, যা বিচারপ্রাপ্তিকে সহজ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত ব্যবস্থা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প। সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়নে ছয় হাজার ১৬৬টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৬৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। নারী সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ৬৫১টি। এ ছাড়া সাত কোটি ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় এবং এক হাজার ৫৭ শতক জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, ‘দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরোধ কম সময় ও কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর। গণমাধ্যমের ইতিবাচক প্রচারণা এ বিষয়ে জনগণকে আরো সচেতন করবে।’ তিনি জানান, গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামীণ বিরোধের বেশিরভাগই গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। সচেতনতার অভাবে অনেকেই অযথা থানা বা আদালতে দৌড়ান। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো: লুৎফর রহমান বলেন, জনসাধারণের কাছে সেবাটি সহজভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাষ চক্রবর্তী এবং লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী গ্রাম আদালতের আইন ও কার্যপদ্ধতি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত একটি জনবান্ধব ও কার্যকর ব্যবস্থা, যা মামলা জট কমিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে সক্ষম।