ইয়েমেনের জ্বালানি বন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ৭৪
Printed Edition
ইয়েমেনের একটি জ্বালানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৭১ জন। হাউছিদের পরিচালিত গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ শুরুর পর বৃহস্পতিবারের হামলাটিই ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার নেয়ার পর গত মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে বড় আকারের সামরিক হামলা শুরু করে। হাউছিরা লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এই আক্রমণ চলবে, বলেছে ওয়াশিংটন। হাউছি সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভি বলেছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাস ইসার জ্বালানি বন্দরে মার্কিন হামলায় ১২৬ জন আহতও হয়েছে। হাউছিদের জ্বালানি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে, বলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে হাউছি গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, নতুন করে বলার কিছু নেই তাদের। “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হাউছিদের ক্ষমতার অর্থনৈতিক উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, এই হাউছিরা তাদের দেশবাসীদের শোষণ করে চলেছে এবং তাদের জন্য প্রচণ্ড যন্ত্রণা বয়ে আনছে,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
এর আগে মার্চে মার্কিন বাহিনীর দুই দিনের হামলায় অর্ধশতাধিক নিহত হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হাউছিরা লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজ লক্ষ্য করে ডজনের বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরাইলের সাথে যোগসাজশ আছে এমন জাহাজ লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে, বলেছিল তারা। জানুয়ারিতে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির সময় হামলা বন্ধ রেখেছিল তারা; ইসরাইল গত মাস থেকে গাজায় ফের অভিযানে নামলে হাউছিরাও লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা আবারো শুরুর হুমকি দেয়, যদিও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার দাবি করেনি তারা।
ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
এ দিকে বিদ্রোহী হাউছিদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগে ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অব ইয়েমেনে ওয়াইএসসির (আইবিওয়াই) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে ওই ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে। তারা হলেন কামাল হোসেন আল জেব্রি, আহমদ ছাবিত নোমান আল আবসি ও আবদুল কাদের আলি বাজারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান-সমর্থিত হাউছিদের আক্রমণ প্রতিরোধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন সরকারের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ইরানের হুমকি দেয়ার নেটওয়ার্ক নির্মূল করার জন্য আমাদের সরকারের সম্পূর্ণ পদ্ধতির অংশ হিসেবে হাউছিদের আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং ব্যাংকিং সুবিধা ব্যাহত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটির ব্যাংকিং খাতকে হাউছিদের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অথোরিটির নির্বাহী আদেশ (ইও) ১৩২২৪ অনুসারে নেয়া হয়েছে।