হকার পুনর্বাসনে হচ্ছে জাতীয় নীতিমালা
উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন রাজধানীতে ৮টি ‘নৈশ মার্কেট’ চালুর প্রস্তাব
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ফুটপাথ থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে এবং তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঢাকার হকার ও ফুটপাথে ব্যবসারত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল রাস্তা থেকে সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে দ্রুত একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।
নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং রাজউকের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, এই কমিটি ঢাকা মহানগরীর হকারদের পুনর্বাসন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করে স্থানীয় সরকার সচিবের কাছে জমা দেবে। এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে হকারদের পুনর্বাসনে রাজধানীতে আটটি ‘নৈশ মার্কেট’ চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অফিস সময়ের পর অর্থাৎ বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার অনুমতি দেয়া হবে, যাতে দিনের বেলায় মূল রাস্তা ও ফুটপাথ পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এ ছাড়া আগে প্রচলিত থাকা ‘হলিডে মার্কেট’গুলো আবার চালু করার বিষয়েও কমিটির সদস্যরা গুরুত্বের সাথে আলোচনা করছেন।
ফুটপাথ উন্মুক্ত করতে চলতি মাসের শুরুতে (১ থেকে ৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ৪৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া অবৈধ পার্কিং ও দখলের অভিযোগে ১৭০টি ভিডিও মামলা এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকাররা আবার ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা শুরু করেছেন। বর্তমানে ট্রাফিক ও থানা পুলিশের সামনেই হকারদের আগের মতো পোশাক, বই, জুতা ও ফল বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
হকাররা বলছেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা অমানবিক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ করা, হকারদের অর্থনৈতিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করে সরকারিভাবে রাজস্ব আদায় করা। এ ছাড়া প্রকৃত হকারদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে পাঁচ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্যসচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সিটি করপোরেশন-১) রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হকার ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা করেছি। আগামী সপ্তাহে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি দ্রুতই নীতিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারব।’