চারজন গ্রেফতার

দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ধার হলো ভয়ঙ্কর মাদক এমডিএমবি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রথমবারের মতো ভয়ঙ্কর শ্রেণীর এমডিএমবি নামক নতুন মাদক জব্দ করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করা এই মাদকের মূলহোতাসহ জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৪০ মিলি এমডিএমবি মাদক, গাঁজার চকোলেট, ভেপ ডিভাইস, ই-লিকুইড, এমডিএমবি বিক্রির জন্য রাখা খালি কনটেইনার।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম (২৬) মেহেদী হাসান রাকিব (২৬), মো: মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস (২৭) ও মো: আশরাফুল ইসলাম (২৫)।

গতকাল শুক্রবার সকালে অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: হাসান মারুফ।

তিনি বলেন, সিনথেটিক ধরনের এই নতুন মাদক এতটাই ভয়ঙ্কর যার দুই ফোঁটা লিকুইড কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। এই মাদক মূলত ই-সিগারেট ও ভেপসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজি বলেন, দেশে ই-সিগারেট বৈধ হওয়ায় এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন ই-সিগারেটের লিকুইডের সাথে এমডিএমবি ব্যবহার হচ্ছে সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে তরুণসমাজের মধ্যে ই-সিগারেট এবং ভেপসের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ই-সিগারেট ও ভেপসের নিকোটিন বা টোব্যাকো জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হতো, যাতে আইনানুগ কোনো বাধা নেই। কিন্তু সম্প্রতি ই সিগারেটের ভেতরে ঘবি চংুপযড়ধপঃরাব ংঁনংঃধহপব (ঘচঝ), ঙঢ়রড়ফং, সহ বিভিন্ন ধরণের উধহমবৎড়ঁং ঝঁনংঃধহপব (যেমন- গউগই) এর ব্যবহার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে যার কারনে বিশ্বের অন্য দেশের মত বাংলাদেশেও উল্লিখিত মাদকের বিস্তার রোধে নজরদারিতে নামে ডিএনসি ঢাকা গোয়েন্দার একটি চৌকস টিম। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডার্ক ওয়েবে নজরদারি শুরু করে। এক পর্যায়ে এমডিএমপি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে তামিমকে চিহ্নিত করা হয়। পরে সোর্স ব্যবহার করে তার কাছে স্যাম্পল অর্ডার করা হয়। অর্ডারকৃত মাদক ডেলিভারির মুহূর্তে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে, ঢাকা মেট্রো উত্তর ও ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের একটি সমন্বিত টিম মিরপুর পল্লবীতে ২০ মিলি গউগই সহ প্রথম সরবরাহকারী তামিমকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য পর্যালোচনা ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অন্যদের গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় ভেপ ডিভাইসকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে এই মাদক দ্রুত নেশা ধরায়, হ্যালুসিনেশন, আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে শুরু করে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হওয়ার মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণ ফ্লেভারড লিকুইডের মতো দেখতে হওয়ায় এটি চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব - ফলে ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারে না যে তারা আসলে গ্রহণ করছে এক উচ্চমাত্রার প্রাণঘাতী ঘচঝ, যা আন্তর্জাতিকভাবে “হবীঃ-মবহবৎধঃরড়হ ংুহঃযবঃরপ ফৎঁম” হিসেবে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসান মারুফ বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও একাধিক ব্যাক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।