চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল
ব্যবহারের অভাবে বিকল হয়ে যাচ্ছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
Printed Edition
অযত্ন-অবহেলায় যেন নিজেই রোগী হয়ে যাচ্ছে ভারত সরকারের উপহার পাওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি। মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার না করায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এটি এখন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকটা বোঝা হয়ে পড়ে আছে হাসপাতাল চত্বরে। অবশ্য এর আগে বেশ কিছু মাস জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরেও পড়ে ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে যেসব অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশ পেয়েছিল, সেগুলোরই একটি পায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়। ওই দিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেয়ার প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা হয়নি এর সেবা। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্স তো পরের কথা। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সেবা চালু নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যে কারণে এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবহার এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিইউ ইউনিট চালু হলে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাবে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা: হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।