জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরা নিশ্চিত অধ্যাদেশ অনুমোদন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করেছে। এই অধ্যাদেশ আগামী পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে আইনে পরিণত হবে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই অধ্যাদেশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অধ্যাদেশের আওতায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া সবাই ফৌজদারি দায়মুক্ত হবেন। নতুন কোনো মামলা দায়েরও সম্ভব হবে না।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিশোধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না। কোনো ঘটনায় রাজনৈতিক প্রোপট আছে এবং কোনোটি ব্যক্তিগত বা সঙ্কীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য হবে।

আইন উপদেষ্টা আরো জানান, মানবাধিকার কমিশন যদি দেখেন কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হলেও ভুক্তভোগী তিপূরণ পাওয়ার যোগ্য, তাহলে সরকারকে সুপারিশ করার সুযোগ থাকবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠিত হবে।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এ ধরনের দায়মুক্তির বিধান প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদও এই ধরনের আইন প্রণয়নের সুযোগ দেয়।’

উল্লেখ্য, জুলাই ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধার হয়। ওই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক সংঘাতে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হন। সম্প্রতি কিছু জুলাইযোদ্ধার গ্রেফতারের প্রোপটে এ ধরনের অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা আরো তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এবং উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।