আগডুম বাগডুম কাবিতা গুলি
Printed Edition
বসন্ত ফলে
সুজন সাজু
কৃষ্ণচূড়ার রাঙা লালে
দৃষ্টি কাড়ে চাঙা ডালে
রূপ সৌরভে মাখা
স্মৃতির নায়ে প্রীতি ঝরা
স্নেহ শোভায় আঁকা।
রোদের হাসি ঝলক মারা
ক্ষণে ক্ষণে পলক মারা
ফুল পাপড়ির ঠোঁটে
প্রজাপতি সোৎসাহে বেশ
মন আমোদে ছোটে।
চিত্রা ফড়িং লাফায় ঘাসে
কচি ডগায় কাঁপায় হাসে
দোলনা দোলে দোলে
শিশির ভাঙা ভোর সকালে
ঘোমটা কলি খোলে।
খেলছে ঢেউয়ে নূপুর পরে
বিকেল সাঁঝে দুপুর ভরে
শালুক দীঘির জলে
পানকৌড়িটির ডুব সাঁতারে
বসন্তের শ্রী ফলে।
যুলকিফুল
তমসুর হোসেন
যুলকিফুল যুলকিফুল
মাথাভরা ঝাঁকড়া চুল
আঁকাবাঁকা নদীর কূল
দারুণ ছেলে যুলকিফুল।
দুষ্টুমিতে হুলস্থূল
কিছু ভালো কিছু ভুল
নদীর ধারে বটের মূল
দুষ্টু ছেলে যুলকিফুল।
কোমল ডানার শঙ্খচিল
বিকেল রোদে শান্ত বিল
হাওয়ায় দোলে রঙিন ফুল
অবাক ছেলে যুলকিফুল।
দুরন্ত বীর কালাপাহাড়
দূরযাত্রার ঘোরসওয়ার
ঘন অরণ্যের বাঘশার্দুল
কঠিন ছেলে যুলকিফুল।
বাঘশাবকের জন্মদিনে
হাফিয রেদওয়ান
বাঘশাবকের জন্মদিনে
নিমন্ত্রণে হাতি
হাত তালি দেয় টিয়ে ইঁদুর
খেঁক-শেয়ালের নাতি।
হরিণ ভালুক ঘুঙুর পরে
বাজায় ঢাকের বাদ্য
তালে তালে খেতে থাকে
সব কুটুমের খাদ্য।
পেটুক হাতি খাবারগুলো
খেয়ে বলে সব শেষ
স্বাদের তৃপ্তি ঢেঁকুর তোলে
খাবার ছিল জমপেশ।
বানর ঘোড়া ময়না শালিক
হলো তারা মালুম
বাঘ মামার তাই চড়া মেজাজ
ডাকে হালুম হালুম।
মেলা আর খেলা
তৌসিফ রেজা আশরাফী
বটের তলায় জমল মেলা
বৈশাখী ঐ দুপুরে
বাঁশির সুরে মন হারালো
মেঠো পথের নূপুরে।
নাগরদোলা বনবনিয়ে
ঘুরছে দেখো ঐ দূরে
রঙিন ঘুড়ি উড়ছে মেঘে
আকাশ ভরা রোদ্দুরে।
খই-মুড়কি আর বাতাসা
মিষ্টি মিঠাই কদমা
হাতে নিয়ে ছুটছে খুকু
সঙ্গে আছে ছোট মা।
মাটির ঘোড়া, মাটির পুতুল
সাজানো সব ডালিতে
খুশির ছোঁয়া লাগল আজি
বাঙালির এই থালিতে।
হালখাতা আর মিষ্টি মুখে
কাটুক বছর সবারই
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে
গড়ব প্রীতির ঘরবাড়ি।
মশা-মাছি
কাজী আবুল কাশেম রতন
মশা বলে মাছিরে
বড় সুখে আছিরে
রাত-দিন মানুষের
থাকি কাছাকাছিরে।
মাছি বলে, মশারে
চোখ তোর ঠাশারে
বিলকুল সাফসুফ
হবে তোর দশারে।
মশা বলে, আহারে
কয়েলের বাহারে
মন-প্রাণ আবেশে
উড়ে যায় পাহাড়ে।
চল ভাই মাছিরে
ফুর্তিতে নাচিরে...
মশা আর মাছি-
কয়েলের চারিদিকে
করে নাচানাচি।
জানো বাবা
কোমল দাস
জানো বাবা তোমার কোলে রোজই আমি উঠি
এই কথাতে মা বলেছেন, পায় না সে তো ছুটি
ছ’মাস বাড়ি আসে না সে, করলি তবু ছল!
কেমন করে তার কোলে তুই রোজই উঠিস বল?
আরো মাকে বলেছিলাম রোজই উঠি ট্রেনে
যা যা আমি বলছি মা গো সব কিছু নাও মেনে
ইচ্ছে হলেই সাঁতার কেটে মাঝ নদীতে যাই
যখন যেটা ইচ্ছে আমার করি তখন তাই।
মন চাইলেই উঠি আমি বড় বড় গাছে
জাল পেতে মাছ ধরে এনে ঘরটা ভরি মাছে
মিথ্যে বলছি বলে কেন দিচ্ছ তুমি আড়ি
সত্যি বলছি এসব এখন আঁকতে আমি পারি।
মায়ের ডাক
গাজী আবদুস সালাম
খেয়াঘাটের ভোলা মাঝি
আমায় নিয়ে যাও
নায়ে ভেসে যাবো আমি
লিচুখালী গাঁও।
কোথায় গেলি খোকন সোনা?
ডাকছে আমার মা
আমার মাকে ছেড়ে আমি
কোথাও যাবো না।
আঁকিবুঁকি
সাজ্জাদ সাদিক
কাকের ছবি আঁকতে গিয়ে
এঁকে ফেলি ময়না
আঁকতে গেলে রাঙা পুতুল
মনের মতো হয় না।
চেয়েছিলাম নৌকা আঁকতে
হয়ে গেল ভেলা
ঘোড়ার গাড়ি আঁকতে গিয়ে
এঁকে ফেলি ঠেলা ।
আঁকতে বসে ভোরের দোয়েল
এঁকেছি এক ফিঙে
লাউয়ের ছবি আঁকতে গিয়ে
এঁকে ফেলি ঝিঙে ।
এঁকে ফেলি কাকতাড়ুয়া
আঁকতে গিয়ে খোকা
ভালো লাগে আঁকিবুঁকি
খেতে নিজের ধোঁকা ।
চৈতীর দুপুরে
জাকির শায়েরী
চৈতীর দুপুরে
আগুন ঝরে আকাশে
পাতাগুলো চুপচাপ
নড়ে নাকো বাতাসে।
মাঠঘাট খাঁ খাঁ
নদী নালা-পুকুরে
জলহীন চৌচির
কাক ডাকে দুপুরে।