ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে শিবচরের ২ যুবক নিখোঁজ

Printed Edition
back-3
রোমান, মুন্না

আহসান হাবীব শিবচর (মাদারীপুর)

উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে ইতালিতে পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুই যুবক। তারা হলেন, বাঁশকান্দি ইউনিয়নের সিরাজ খানের ছেলে ফারহান খান রোমান (২৪) এবং বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি এলাকার আব্দুল লতিফ মাতুব্বরের ছেলে নিশাত মাতুব্বর মুন্না (২৬)।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় দালাল আব্দুল কুদ্দুসের প্রলোভনে পড়ে ৩ অক্টোবর ২২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় রোমান। প্রথমে ওমরাহ হজ পালনের কথা বলে তাকে সৌদি আরবে নেয়া হয়। পরে কুয়েত ও মিসর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানো হয়।

রোববার সকালে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের সিঙ্গাপুর বাজারসংলগ্ন রোমানের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় দেখা যায় হৃদয় বিদারক দৃশ্য। একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ছাবিনা বেগম। ছয় মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে স্ত্রী মেহেনাজ আক্তার নির্বাক হয়ে বসে আছেন। বাড়িজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, গত ১০ নভেম্বর লিবিয়া থেকে ‘গেম’ প্লানিং-এর মাধ্যমে সাগর পাড়ি দেয়ার জন্য ট্রলারে ওঠার সংবাদ পাওয়া যায়। ট্রলার ডুবির অল্প কিছুক্ষণ আগে পরিবারকে পাঠানো হয় শেষ ভয়েস মেসেজ-ঠিকঠাকভাবে পৌঁছালে ফোন দেবো। এরপর থেকেই পরিবারের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দালাল আব্দুল কুদ্দুস জানায়, ট্রলার ডুবির ঘটনায় অধিকাংশ যাত্রী নিখোঁজ। পরিবারের অভিযোগ, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই তাদের মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। এমনকি ছেলেদের নিখোঁজ হওয়ার পরও দালাল আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করে। রোমানের মা ছাবিনা বেগম আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও। আমার টাকা লাগবে না। তোমরা শুধু আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একই দালালের মাধ্যমে শিবচরের অর্ধডজন যুবক ইতালি যাওয়ার পথে নিখেঁাঁজ হয়েছে। তারপরও তারা বারবার রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।

শিবচর থানার ওসি মো: রকিবুল ইসলাম জানান, লিবিয়ায় আটক রেখে নির্যাতনের ঘটনার একটি মামলায় এর আগেই গ্রেফতার হয়েছে সংশ্লিষ্ট দালাল। তবে এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করছি। গেম দিয়ে নয়, বৈধ পথে যেতে হবে ইতালি।