বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিয়ে আবারো শঙ্কা

Printed Edition
bangla-1
বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধের নির্মাণে কাজ করছেন শ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ ও নদী তীর সংরক্ষণে ৪৫৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এর গতি, মান ও সার্বিক বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে একই এলাকায় নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উপকূলীয় জনপদ।

২০২৪ সালের ২৮ মে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও চলতি বছরের মার্চে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যাদেশ দেয়। ছয়টি প্যাকেজে মোট সাত হাজার ৫১০ মিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ, ঢাল সংরক্ষণ ও নদী তীর সংরক্ষণের কাজ পাচ্ছে আরপিএল, পিডিএল, হাসান ব্রাদার্স, জামিল ইকবাল ও ওয়েস্টার্ন-পিডিএল।

প্রকল্প অনুযায়ী, সাধনপুরে ৬১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার ১০০ মিটার সাঙ্গু নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ পাচ্ছে আরপিএল ও হাসান ব্রাদার্স। খানখানাবাদে তিনটি প্যাকেজে ১৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করছে ওয়েস্টার্ন-পিডিএল। একই এলাকায় অন্য দু’টি প্যাকেজে জামিল ইকবাল ও হাসান ব্রাদার্স কাজ করছে। ছনুয়ায় ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৮০০ মিটার কাজ পেয়েছে পিডিএল ও আরপিএল।

সরেজমিন দেখা গেছে, খানখানাবাদের একটি প্যাকেজ ছাড়া বাকি পাঁচ প্যাকেজে কাজ শুরু হলেও রাজনৈতিক চাপ, যোগাযোগ সমস্যাসহ নানা কারণে কাজের গতি ধীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ও শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ঠিকাদাররা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। অনেক জায়গায় বালু ও শ্রমিক সরবরাহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এ ছাড়া ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের বালু, লবণাক্ত পানি ব্যবহার, ব্লক প্রস্তুতের পর পর্যাপ্ত পানি না দেয়া, ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করা এবং লবণাক্ত জমিতে ব্লক মজুদ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে ব্লকের টেকসই মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবোর এক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি সাইটে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণেও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএলের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম বলেন, মানহীন বালু আমরা গ্রহণ করছি না। প্রতিটি সাইটে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পাথর আমদানি ও পরীক্ষার পরই কাজে লাগানো হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, ব্লকের মান নিশ্চিত করতে বুয়েট থেকে পরীক্ষা করা হবে। মান ঠিক না হলে ঠিকাদারকে পুনরায় ব্লক তৈরি করতে হবে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও গ্রুপিংয়ের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে শত শত কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পও টেকসই হবে না এবং উপকূলীয় জনপদের ঝুঁকি থেকেই যাবে।