ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ভিসি পদে শীর্ষ ৭ নামের তালিকা ২ নারী শিক্ষকের সম্ভাবনা
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রোববার তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পদত্যাগপত্র অনুমোদন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এ পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে। পদত্যাগপত্র গ্রহণের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয় নিয়ে তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
ভিসি পদে নিয়োগের জন্য বর্তমানে পাঁচজন প্রবীণ শিক্ষককে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের মহাসচিব। এ ছাড়াও তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। রয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ যিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা’ দলের আহ্বায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) বর্তমান সভাপতি। তিনি ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি ঢাবি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান যিনি কলা অনুষদের ডিন এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই পদে দুইজন নারী শিক্ষকের নামও আলোচনায় এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রোভিসি এবং সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদের কন্যা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাবি সাদা দলের সাথে যুক্ত থেকেছেন। অপরজন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার (টফি)। তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন-এর মহাসচিব। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সমাজকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকায় তিনি বিএনপির সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রথম ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল নতুন ভিসি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নেতৃত্বের যোগ্যতা, শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করছে। পদত্যাগপত্র অনুমোদনের পর শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।