গ্যাস সঙ্কটে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শাহজালাল সার কারখানা

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কটে পড়েছে দেশের অন্যতম বড় সার কারখানা ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি। এই কারখানায় যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইউরিয়া সার উৎপাদন। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং সার কারখানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

বিসিআইসি বলছে, ইতোমধ্যে দেশের ছয় সার কারখানার পাঁচটিই বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজারের উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও গ্যাস সঙ্কটে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই কারখানায় উৎপাদন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তীব্র গ্যাস সঙ্কটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভরা মৌসুমে দেশে সার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর শাহজালাল ফার্টিলাইজার বন্ধ হলে পুরো সার সরবরাহ ভেঙে পড়বে।

বিসিআইসির তথ্য বলছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা আছে। এগুলো হলো ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার, শাহজালাল ফার্টিলাইজার, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, যমুনা ফার্টিলাইজার ও আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি। গত কয়েক দিন ধরে টানা গ্যাস সঙ্কটের কারণে বর্তমানে শাহজালাল ফার্টিলাইজার ছাড়া বাকি সবগুলোর উৎপাদন বন্ধ আছে। তবে গ্যাস সঙ্কট চলমান থাকলে এটাও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডও (কাফকো) গ্যাস সঙ্কটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

অর্থাৎ, দেশের ছয়টি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটির উৎপাদনই বর্তমানে বর্তমানে বন্ধ আছে।

বিসিআইসি পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকারি পাঁচটি কারখানার দৈনিক মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় সাত হাজার ১০০ টন। শাহজালাল ফার্টিলাইজারের উৎপাদনও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, গ্যাস সঙ্কটের কারণে চারটি কারখানায় উৎপাদন ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, এই পাঁচ কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার বিকেল ৩টা থেকে চট্টগ্রামের দুই সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।