দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, তবু চিনিতে কোটি টাকা লোকসান
Printed Edition
হুসাইন মালিক চুয়াডাঙ্গা
দেশের চিনি শিল্প যখন টিকে থাকার সংগ্রামে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ নিট মুনাফা অর্জন করেছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, যা আগের অর্থবছরের ১১২ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকার তুলনায় প্রায় ১৭ কোটি বেশি। তবে এই সাফল্যের মাঝেও চিনি বিভাগে লোকসান হয়েছে ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সঙ্কটকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সরকারের কাছে রাজস্ব জমা পড়েছে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা গত বছরের সমান। প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ আয় এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে ১৯০ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া জৈবসার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার, পরীক্ষামূলক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ মিলিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। ফলে ছয় বিভাগের মধ্যে পাঁচটিতে লাভ হলেও চিনি বিভাগ ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
চিনি বিভাগে লোকসানের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পুরনো ও কম চিনিসমৃদ্ধ আখের জাত, কৃষকের আখ চাষে অনাগ্রহ, সময়মতো দাম না পাওয়া, সেচ-সারসহ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পুরনো যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা এবং বাজারে সস্তা বা ভেজাল চিনির প্রভাব। রিকভারি রেট কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, আর মানসম্পন্ন আখ না পাওয়ায় মিলের চিনি উৎপাদন লক্ষ্য পূরণও ব্যাহত হয়।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান বলেন, রেকর্ড মুনাফা ডিস্টিলারি বিভাগের জোরে। কিন্তু চিনি বিভাগের সমস্যা বহু বছরের। আখের মান উন্নয়ন, রিকভারি বাড়ানো এবং পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন জরুরি। ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার বিএমআরআই আধুনিকায়ন প্রকল্প প্রায় শেষ; নতুন অটোমেটিক কারখানা চালু হলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লোকসান কমবে।
মাড়াই মৌসুম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের চেয়ারম্যান রশিদুল হাসান বলেন, চিনিকল পুনরুজ্জীবনে উচ্চফলনশীল আখের জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। কেরুর আধুনিকায়ন শেষ হলে উৎপাদন দক্ষতায় বড় পরিবর্তন আসবে। একটি অনুষ্ঠনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, চিনি বিভাগকে লাভের মুখে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, নতুন অটোমেটিক সিস্টেম চালু হলে ‘সিস্টেম লস’ কমবে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আখচাষিরা বলেন, উচ্চ চিনিসমৃদ্ধ আখের জাত, সময়মতো মূল্যপ্রদান এবং প্রণোদনা নিশ্চিত করলে মাঠ পর্যায়ে আখ চাষ আবারো বাড়বে।
কেরুর আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন কারখানা চালু এবং উন্নত আখ সংগ্রহ সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে চিনি বিভাগও লাভজনক হবে।