সুন্দরতম হাঁস
Printed Edition
মো: আবদুস সালিম
বিশ্বে হাঁস রয়েছে প্রায় ১৬০ প্রজাতির। এতগুলোর মধ্যে সুন্দরতম হাঁস হচ্ছে ‘মান্দারিন হাঁস’। এর ইংরেজি নাম ম্যান্ডারিন ডাক (Mandarin Duck)। এ হাঁসের শারীরিক গঠন যেমন সুন্দর, তেমনি সারা শরীরে রয়েছে বিচিত্র নানা রঙের বাহার। এ কারণে এ হাঁসকে সুন্দরী হাঁসও বলা হয় । ডুবুরি হাঁস, কালো মুখ প্যারাপাখি ইত্যাদি নামেও এরা পরিচিত। ওরা কোড়া কালেম, রাঙা হালতি, ডুংকর, সারস, ডাহুক প্রভৃতি পাখির নিকটাত্মীয়। অনেকে বলেন, সুন্দরবনে এ হাঁস বেশি দেখা যায় বলে এদের নাম হয়েছে ‘সুন্দরতম হাঁস’।
পৃথিবীতে মান্দারিনের বিচরণ প্রায় ১৯ লাখ বর্গকিলোমিটারজুড়ে। বিভিন্ন দেশ থেকে এ পাখি বাংলাদেশে আসে পরিযায়ী বা অতিথি হয়ে। কিন্তু এ অতিথিকে আমরা শিকার বা হত্যা করতে দ্বিধা করি না। পৃথিবীতে এ হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। তাতে বোঝা যায়, এখন পর্যন্ত এরা কমে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিছু দেশে ওরা স্থায়ী পাখি। পরিযায়ী হয়ে আসে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া, জাপান, চীন প্রভৃতি দেশে। পুরুষ হাঁসের সৌন্দর্যের কারণে অনেক দেশে এ হাঁস পোষা হয় উদ্যানের শোভা বৃদ্ধির জন্য। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এদের বংশবিস্তার দ্রুত ঘটে।
নানান রঙের ছড়াছড়ি পুরুষ মান্দারিনের শরীরে। এ হাঁসের পাখা কমলা রঙ ধারণ করে প্রজনন মৌসুমে। এ গোল মাথার হাঁসের চাঁদি বাদামি। চাঁদির পাশটা নীলচে-সবুজ। সাদা চওড়া ছোপ দাগ চোখের উপরে। লম্বা ও মোটা সাদা ভ্রƒ। কমলা রঙের ঘন পালক রয়েছে গলা, ঘাড় ও চিবুকে। ডানার গোড়া সাদা-কালো। দেহের নিচ সাদা। চকচকে লাল ঠোঁট। হালকা গোলাপি ঠোঁটের সামনের দিক। উজ্জ্বল বাদামি চোখ। কমলা-হলুদ পা। এদিকে, স্ত্রী হাঁসের শরীরে নেই রঙের বাহার। এদের দেহের নিচটা সাদা ও পিঠ বাদামি। বেশ কয়েকটি সাদা রেখা বুকে। সাদা চশমার মতো দাগ চোখে। চোখের রেখা সাদা। হলুদ ঠোঁট। জলাধারে এদের বেশি দেখা যায়। শরীরের পেছনমুখী থাকে অন্যান্য প্রজাতির হাঁসের পা। কিন্তু মান্দারিনের পা সামনেমুখী। খাদ্য হিসেবে বেশি পছন্দ শামুক, পোকামাকড়, ছোট মাছ, কাঁকড়া ইত্যাদি। এদের প্রজনন এপ্রিল-সেপ্টেম্বরে। বাসা বানায় বনের জলাশয়ের কাছাকাছি। ডিম দেয় ১০-১২টি করে। ডিম ফুটে ছানা বের হয় ২৫-৩০ দিনে। ছানার উড়তে শিখে প্রায় ৪৫ দিনে। মান্দারিন হাঁসের আয়ুষ্কাল ১০-১২ বছর।