নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সংগঠিত হচ্ছে আ’লীগের সন্ত্রাসীরা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও মাঠ পর্যায়ের নেতারা। তারা নির্বাচনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দলের ব্যানারে নিজেদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। এতে দীর্ঘ দিনের আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত ফ্যাসিস্ট-বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর থানার তারাবুনিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান ও তার ভাই মাসুদ হোসেন ঠাণ্ডুর প্রকাশ্যেই মিটিং করার ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ফ্যাসিস্ট-বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান রাজাপুর থানার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। দু’বার নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার ভাই ঠাণ্ডু একজন পেশাদার সন্ত্রাসী এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরে রয়েছে তার বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। তাকে ঠ্যাং কাটা ঠাণ্ডু হিসেবে সবাই চেনে। জুলাই আন্দোলন দমনে এই ছিদ্দিক ও তার ভাই ঠাণ্ডু ব্যাপক তৎপর ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রামপুরা ও মোহাম্মদপুরে দু’টি হত্যা মামলা রয়েছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় ছিদ্দিক ও ঠাণ্ডু ৩৫২ ও ৩৫৮ নম্বর আসামি। রামপুরা থানার অপর এক মামলায় তারা ৫৯ ও ৬০ নম্বর আসামি। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বাবু মোল্লা হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান।
সম্প্রতি তারা নিজ এলাকায় গিয়ে আবারো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করছে বলে অভিযোগ মিলেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তারাবুনিয়ার আমতলা পূঁজামণ্ডপ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি মিটিং করে।
এই মিটিংয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পলাতক অনেককেই প্রকাশ্যে দেখা যায়। মিটিং শেষে তারা ছাত্রদল, বিএনপি ও মহিলা দলের বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ মিলেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছিদ্দিক ও ঠাণ্ডুর ভয়ে এখন তারা তটস্থ। ছিদ্দিক ও ঠাণ্ডুর রয়েছে বিশাল বাহিনী। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, পুলিশকে ম্যানেজ করেই ছিদ্দিক ও ঠাণ্ডু এলাকায় গিয়ে মিটিং সমাবেশ করছে।