দেশের ব্যাডমিন্টনে ভবিষ্যৎ দেখছেন সারাদেবী

Printed Edition
Sports-4
দেশের ব্যাডমিন্টনে ভবিষ্যৎ দেখছেন সারাদেবী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাতদিনের সফরে নেপাল থেকে বাংলাদেশে এসেছেন কোচদের প্রশিক্ষক সারাদেবী তামাং। ২৪ জন অলিম্পিক সলিডারিটি বিডব্লিউএফ লেভেল ওয়ান কোচ এডুকেশন প্রশিক্ষণ দিবেন তিনি এবং বাংলাদেশের অহিদুজ্জামান রাজু। এই কোচেস কোর্সের জন্য তাদের দু’জনকেই অ্যাসাইন করেছে ব্যাডমিন্টন এশিয়া। সুজলা সুফলার দেশে এবারই প্রথম নয় তার আগেও ২০১০ ও ২০১৫ দুইবার এ দেশে খেলতে এসেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এলেন কোচদের প্রশিক্ষণ দিতে। রাজুরও এটি তৃতীয় অ্যাসাইনমেন্ট। এর আগে দু’টি হয়েছিল চট্টগ্রামে।

কয়েক দিনের ব্যবধানে বুঝে গেছেন সবার প্রতিভা আছে। কিন্তু প্রকাশের রাস্তা ভিন্ন। সারাদেবী জানান, ‘এক সাথে এতগুলো কোচ তৈরি হচ্ছে। এটা তোমাদের দেশের জন্য অবশ্যই ভালো একটি দিক। তবে স্বল্প ট্রেনিংয়ের পর তারা কিভাবে নিজেদের উন্নতির জন্য কাজ করবে সেটিও একটি বিষয়। একজন কোচ যত আপডেট হবে, তার স্টুডেন্টরাও তত উন্নত হবে।’

প্রতিভার এক নাম সারাদেবী তামাং। হবেই না কেন। পারিবারিক সূত্রে পেয়েছেন অনেক কিছু। বাবা দান বাহাদুর তামাং ছিলেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। ভাই রতœাজিত তামাং ও বোন নংশাল তামাং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন। তিনি নিজে তিনবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে টানা দশ বছর একক কর্তৃত্ব দেখিয়েছেন এই শাটলার। সাফে চারবার, নেপাল আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন। তা ছাড়া দুইবার এশিয়ান গেমসে (কোরিয়া ও গুয়াংজু) অংশ নিয়েছেন। জানালেন, ‘তোমাদের সেরা নারী শাটলার শাপলা ও এলিনাকে চিনি। এবার তাদের সাথে দেখা হয়নি।’

সারাদেবী ২০১৫ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে প্রবেশ করেন কোচিং লাইনে। ২০১৭ সালে লেভেল ওয়ান, ২০১৮ সালে লেভেল টু এবং ২০২৪ সালে লেভেল ওয়ান টিউটর কোর্স করে সাফল্যের সাথে উন্নীত হন। বিডব্লিউএফের দেয়া নেপাল এবং কাতারের অ্যাসাইনমেন্ট শেষে তৃতীয় অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। তার কথায়, ‘এখানে প্রকৃতি, পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া আমাদের মতোই। তাই কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। মনে হয় নিজ দেশে আছি। তবে আমার যেটা মূল কাজ, ২৪ জন কোচকে শেখানো, পড়ানো, দেখানো। তারা যদি ভালোভাবে শিখে আরো উন্নত হয়ে শাটলার তৈরি করতে পারে। তখনই আমার স্বার্থকতা আসবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এখানে যারা আছে তারা সবাই ভালো। পরে তাদের আগ্রহ কেমন থাকে সেটি তো বলতে পারবো না। যারা লেগে থাকবে, তারা ভালো করবে। তাদের দেখানো পথে বাংলাদেশে উন্নত শাটলার তৈরি হবে। যদি মনে করে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করা দরকার তা হলে সুন্দর আগামী হবে।’