মান্দায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম
৯ মাসের কাজ শেষ হয়নি ২ বছরেও
Printed Edition
এম এম হারুন আল রশীদ হীরা মান্দা (নওগাঁ)
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় নির্মাণাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম’ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ৯ মাসের কাজ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। তদারকি না থাকায় প্রকল্পের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এমনকি বালুর পরিবর্তে লাল মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট করায় বর্ষায় মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দফতরেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প এলাকায় টাঙানো সাইনবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছিল পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর ফলে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় আরো এক কোটি ১০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে তিনটি গ্যালারি এবং একটি অফিস কাম ভিআইপি গ্যালারি নির্মাণ করা হচ্ছে। অবকাঠামো দাঁড় করানো হলেও পুরো কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যালারি ও ভবন নির্মাণে পুরাতন রড, নিম্নমানের ৩ ও ২ নম্বর ইটের খোয়া এবং নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। স্টেডিয়াম এলাকায় কাজের তদারকির জন্য কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল কাউকেও পাওয়া যায়নি। এমনকি শ্রমিকদেরও দেখা মেলেনি।
বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, মাঝে মাঝে মিলন নামের একজনকে দেখা যায়। তিনি ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছেন। কিন্তু বালু দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে লাল মাটি। বর্ষা এলে এই মাটিতে কাদা হবে, পানি জমবে। তখন কোটি কোটি টাকার এই স্টেডিয়াম খেলাধুলার কোনো কাজেই আসবে না।’ মাইনুর ইসলাম ও সাহেব আলীসহ অন্য বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বা উপজেলা প্রকৌশলী কেউ এই কাজের খবর রাখেন না। তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যা ইচ্ছা তাই করছে।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জাকিউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর ম্যানেজার মিলন হোসেন বলেন, শিডিউল সম্পর্কে আমার তেমন কিছু জানা নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি।’ এর বাইরে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি, এমনকি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের মুঠোফোন নম্বর দিতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মাঠ ভরাটে লাল মাটি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। শিডিউলের বাইরে কাজ হয়ে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে মান্দা ইউএনও আখতার জাহান সাথী বলেন, এটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরাসরি বাস্তবায়িত কাজ। এর কারিগরি বিষয় বা অগ্রগতি সম্পর্কে আমার দফতরে কোনো তথ্য নেই।