রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবারো স্থডসু
Printed Edition
রংপুর ব্যুরো
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় হল ও ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন আবারো স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত তারিখে ভোট হচ্ছে না। নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থগিতের ঘোষণায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী পরিষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আহমেদুল আলবির নির্বাচন কমিশন ও ভিসিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো: শাহজামান জানান, ভোটার তালিকায় ত্রুটি বিচ্যুতি এবং প্রশাসন থেকে হালনাগাদ তথ্য না পাওয়ায় পূর্বনির্ধারিত ২৪ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা সঠিক না থাকার কারণে আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম অঘোষিতভাবে বন্ধ রেখেছি। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং তারা সম্মত হয়েছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘ঘোষণা দিলে প্রশাসন চাপে পড়বে। তাই আমরা ঘোষণা না দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি।’ এ দিকে নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘শিক্ষার্থী পরিষদ’ প্যানেল। প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আহমেদুল আলবির বলেন, ‘একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এই নাটক করছে। দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন বানচালের সাথে জড়িত ভিসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করছি।’
আলবির আরো অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাজ করছেন। তারা ব্রাকসুকে ভয় পান কারণ আর অপকর্ম করতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনের বিষয়ে বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। দ্রুত সব জটিলতা দূর না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।’
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এম শওকাত আলী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় ভোটার তালিকা সংশোধন। আমরা ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করব। তবে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ রাখাটা সমীচীন নয়।’ ছাত্ররাজনীতি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোট স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশোধিত তালিকা ও নির্দিষ্ট সময়ে ভোট না হলে পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।