যারা চাঁদাবাজি এবং নির্যাতন করছে, তারা মতায় গেলে মানুষ নিরাপদ থাকবে না : মিয়া গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
Nagar-3
ডুমুরিয়ায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা মতায় যাওয়ার আগে হুমকি, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি এবং দলীয় স্বার্থের জন্য নির্যাতন চালায়, তারা মতায় গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের ওপর যারা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, তারা মতায় গেলে ডুমুরিয়ার মানুষ নিরাপদ থাকতে পারবে না। এই কারণে এবার লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি সবই আমরা দমন করব। আমরা ৫৪ বছরের ব্যর্থ শাসকদের লাল কার্ড দেখাব।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে ভীতি ছড়িয়ে জনগণকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। একটি মহল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে হিন্দু ভোটারদের পা ভাঙা হবে, নারীরা সিঁদুর বা বোরকা পরে থাকতে বাধ্য হবে। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার। ইসলামী শাসনের অধীনে সবাই নিরাপদ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন, গুটুদিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর, গোলনা, খলশিসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা, নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাজিয়াড়া মোড়ে পথসভা ইউনিয়ন সেক্রেটারি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও ইজাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মুফতি আবদুল কাইউম জোমাদ্দার, খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সিংহ, সেক্রেটারি অধ্য দেব প্রসাদ মন্ডল, ডুমুরিয়া সদর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে মারকাজুল উলুম মাদরাসায় উঠান বৈঠক করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জিন্নাত আলী। পরে গোলনায় উঠান বৈঠক ইউনিয়ন আমির আবুল গনি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মির্জাপুর, গোলনা, খলশিসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মুফতি আবদুল কাইউম জোমাদ্দার, খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সিংহ, সেক্রেটারি দেব প্রসাদ মন্ডল, গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, অধ্য শেখ জালাল উদ্দীন, অধ্য আলী হায়দার, মুফতি শরিফুল ইসলাম, সরদার আব্দুল ওয়াদুদ, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, হাফেজ বেলাল হোসেন, আব্দুল গনি, মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, অরুণ আচার্য্য, মুহা: মশিউর রহমান, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সৈয়দ আলমগীর হোসেন, রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ।

তার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলের অন্য নেতৃবৃন্দ ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রতিপকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা ভয় দেখাতে পারেন, কালো টাকা ছড়াতে পারেন, কিন্তু জনগণ এখন আর বিভ্রান্ত হবে না। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরব। কোনো হামলা নয়, কোনো উসকানি নয় জনগণের বিবেকই আমাদের শক্তি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার ১১ দলের জোটের অংশ হিসেবে শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইনশাআল্লাহ, গণতান্ত্রিক ও ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা হবে। তিনি বলেন, এই জোট ইসলামী চেতনা, জুলাই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।