আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, গত ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।
গতকাল রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভালো একটা রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসে। মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে। এসব কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নরসিংদীতে একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা বলেছি ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভিতরে সব অপরাধীকে গ্রেফতার করতে হবে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আরো দু’তিনটা এরকম ঘটনা ঘটেছে। সবগুলো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গণক নই যে ঘটনা ঘটার আগে আমরা সেটা জানব। কিন্তু ঘটনা ঘটার পরে আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি কি না সেটাই হচ্ছে মানুষের দেখার বিষয়। আমরা জনগণকে সেটা দেখাতে পেরেছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক, কতটা কঠোর এ বিষয়ে জনগণ ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে। তিনি বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি- তদন্তের দায়িত্ব আমাদের। আমরা যেকোনো ঘটনায় খুব দ্রুত তদন্তের মধ্য দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করব যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টার মতো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলো হুবহু কোনগুলো সংসদ গ্রহণ করবে সেগুলো জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে- সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোন কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, তামাদি হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের অতি শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। কিভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। শিগগিরই অ্যাকশন শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তারা অতি শিগগির যেন আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত নেবো।
চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই মাস আগে একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ প্রহরা দিয়েছেন। সেই সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা করতে পারেনি। সেজন্য দু’মাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা হেভি উইপন্স (ভারী অস্ত্র) দিয়ে গোলাগুলি করেছে। তিনি বলেন, গোলাগুলির এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এটা নিয়ে কাজ করছে। দলের নামে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ ঢালাওভাবে করলে তার জবাব দেয়া যায় না।