স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ

বাসস
Printed Edition
back-3
তুরস্কে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম এ খানের সাথে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম : বাসস

জাতিসঙ্ঘের একাধিক প্রস্তাবের সাথে সঙ্গতি রেখে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

গতকাল শুক্রবার তুরস্কে ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’ এর ফাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম এ.এ. খানের সাথে এক বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: মাহফুজ আলম এই আশ্বাস দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দুই উপদেষ্টা সাম্প্রতিক আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্দশায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তারা রোহিঙ্গা সঙ্কট ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসি’র অবস্থানের জন্য সংস্থাটির প্রশংসা করেন। দুই উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার ও সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইসিসি’র মধ্যে সব ধরনের সম্পৃক্ততার দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় বাংলাদেশের অটল অবস্থানের প্রশংসা করেন আইসিসি’র প্রসিকিউটর করিম এ. এ. খান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোম সংবিধি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাথে দৃশ্যমান সহযোগিতা অন্বেষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তৌহিদ হোসেন।

উভয় পক্ষই আগামী দিনে বিদ্যমান সম্পৃক্ততার মাত্রা আরো বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

‘বিভক্ত বিশ্বে কূটনীতি পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল তুরস্কের আনাতোলিয়ায় তিন দিনব্যাপী ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’ শুরু হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোগানের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ফোরামের আয়োজন করেছে।

বিশ্ব নেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত করেছে এডিএফ। এই ফোরামের মাধ্যমে কীভাবে কূটনীতির পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়া যায় এবং একটি বিভক্ত বিশ্বে সম্মিলিত পদক্ষেপের একটি সাধারণ ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়, তা অনুসন্ধান করা হবে।

২০ জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৫০ জনেরও বেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৭০ জনেরও বেশি মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৬০ জন সিনিয়র প্রতিনিধি, পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ ৪ হাজার জনেরও বেশি অতিথি ফোরামে অংশগ্রহণ করেছেন।

এশিয়ায় আস্থা অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা সিআইসিএ’র

কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) মহাসচিব কাইরাত সারিবে গতকাল সিআইসিএ’তে বাংলাদেশের অবদান এবং এশিয়ায় আস্থা তৈরির পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় ‘আনাতোলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম (এডিএফ) ২০২৫’ সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: মাহফুজ আলমের সাথে এক বৈঠকে সিআইসিএ মহাসচিব এ কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিআইসিএ-র মধ্যে সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সিআইসিএ’কে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপান্তরে মহাসচিবের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি বাংলাদেশের খাতভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাথে সিআইসিএ’র যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন, কারণ এটি বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।