এক যুগেও শেষ হয়নি জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ
Printed Edition
খাদেমুল বাবুল জামালপুর
জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। লক্ষ্য ছিল, জামালপুরসহ আশপাশের চার জেলার প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া। কিন্তু প্রায় ১৩ বছর পার হলেও ৫০০ শয্যার মূল হাসপাতাল ভবনের কাজ এখনো শুরু হয়নি। সম্পন্ন হয়েছে শুধু সহায়ক ২৬টি ভবন, যার বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।
২০১৪ সালে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অস্থায়ীভাবে কলেজ ও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নতুন প্রকল্প হিসেবে মনিরামপুর এলাকায় ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রধান কাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তিন দফায় ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। তবু মূল ভবনের জায়গাটি এখনো রয়ে গেছে বিশাল জলাশয়ের মতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের এক কর্মকর্তা জানান, তারা একাডেমিক ভবন, কোয়ার্টার ও ছাত্রাবাস নির্মাণ করলেও এসব ভবনেও নি¤œমানের কাজের প্রভাব স্পষ্ট। সরেজমিনে দেখা যায়, চার বছর আগেই নির্মিত একাডেমিক ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারে নানাবিধ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ও কনফারেন্স হল নির্মাণের কাজ চললেও সামগ্রিক অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর।
মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের অব্যবস্থাপনা তাদের শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হাসপাতাল ভবন নির্মাণ না হলে এই অবস্থা আরো দীর্ঘায়িত হবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, প্রকল্পটির বিলম্বে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই সক্ষমতার বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। কেউ কেউ বলেন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু থাকলে অনেক সঙ্কটই নিরসন হতো।
গণপূর্ত বিভাগ জানায়, প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ২০২৩ করা হয়। এখন ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব জিওবি ফান্ডে পাঠানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা: আজিজুল হক বলেন, ‘হাসপাতাল ভবন না থাকায় জেনারেল হাসপাতালকে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, যা চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
এক যুগ পরও প্রকল্পের স্থবিরতা স্থানীয় মানুষের মধ্যে হতাশা গভীর করছে, কবে তারা পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেবা পাবেন, তার উত্তর এখনো অনিশ্চিত।