শরীফুল : ৬০ বলে ৪২ ডট

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ম্যাচ শুরুর আগে গতকাল সকালেও কি তিনি জানতেন সেরা একাদশে থাকবেন। জানার কথাও না। হঠাৎ করে মোস্তাফিজুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন শরীফুল। জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট আগের রাতেই ক্রিকেটারদের একাদশ জানিয়ে দিয়েছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমান খেলবেন, শরীফুল ইসলাম যে থাকবেন না তা জেনে গিয়েছিলেন আগের রাতেই। কিন্তু মোস্তাফিজের অস্বস্তিতে খুলে যায় শরীফুলের ভাগ্য। দলের সাথে মাঠে আসার পর ওয়ার্মআপ করার সময় ডানপায়ের হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করেন এই কাটারমাস্টার। দলকে শেষ মুহূর্তে জানালে টিম ম্যানেজমেন্ট বেছে নেন শরিফুলকে। একাদশের দরজা খুলে যায় বাঁহাতি এই পেসারের।

২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বরের পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন শরীফুল। মাঝে বাংলাদেশ ১৫ ওয়ানডে খেললেও একটিতেও ছিলেন না। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, শ্রীলঙ্কা সফর, আফগানিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ, সবশেষ মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান সিরিজে দলের বাইরে ছিলেন। এবার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে বল হাতে ভালো করেছিলেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শরীফুল। সেই ছন্দ ধরে রাখলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে। তপ্ত গরমে ভর দুপুরে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২ মেডেনসহ ২৭ রানে ২ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। নিয়ন্ত্রিত বোলিং, কার্যকরী বাউন্স এবং গতির মুগ্ধতায় শরীফুল ছিলেন অনন্য। মোস্তাফিজের জায়গায় সুযোগ পেয়ে যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন বা যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

নতুন বলে বোলিং শুরু করেন শরীফুল। শুরুর ২ ওভার করেছিলন প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে। তৃতীয় ওভারে প্রান্ত বদল করে সাফল্যের দেখা পান। ভুগতে থাকা নিক কেলিকে বোল্ড করেন। পাওয়ার প্লে’তে আরো একটি উইকেটের দেখা পেতে পারতেন। যদি সাইফ হাসান উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ নিতে পারতেন। শুরুর ১০ ওভারে ৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ৯ রানে ১ উইকেট নেন। এরপর ৩২তম ওভারে নিজের তৃতীয় স্পেলে ফিরলে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। ডেন ফক্সক্রফ্ট প্রথম বলেই বাউন্ডারি আদায় করে নেন। দুই ওভার পর শরীফুল দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান। মোহাম্মদ আব্বাসকে লিটনের গ্লাভসবন্দী করান। এই স্পেলে ৩ ওভার বোলিং করেই ১ উইকেট পান। ডেথ ওভারেও শরীফুল রান আটকে রাখেন। ৪৪তম ও ৪৮তম ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি তিনি। দুই ওভারেই রান দেন ৪ করে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ তেমন অভিজ্ঞ নয়। তবে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার নিয়েই তারা বাংলাদেশে এসেছেন। ১৫ মাস পর ওয়ানডেতে ফিরে ভালো করার যে চ্যালেঞ্জটা শরীফুল নিয়েছেন তাতে বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছেন।