নেভাল সিরাজের মতো বীরদের কারণেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল : উপদেষ্টা ফাওজুল কবির
Printed Edition
নরসিংদী প্রতিনিধি ও মাধবদী সংবাদদাতা
নরসিংদীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক গেরিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ওরফে নেভাল সিরাজের (বীরপ্রতীক) নামে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ (কে. জি) গুপ্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম (বীরপ্রতীক)।
অন্যান্যের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, নেভাল সিরাজের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, ফকির আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নেভাল সিরাজকে তার ভিন্ন মতাবলম্বীরা অতি কৌশলে হত্যা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র এক বছরও তিনি বেঁচে থাকতে পারেনি। অতীতের সরকারগুলো তার ও পরিবারের খোঁজখবরও নেয়নি। তার সন্তানদের এতিমখানায় থাকতে হয়েছে- এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?
তিনি বলেন, নেভাল সিরাজের মতো বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। নেভাল সিরাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাননি, বিজয়ের মাসে পুনঃজাগরিত হয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে উপদেষ্টা বলেন, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত ও বিকৃত চায় তাদের সুযোগ দেবেন না। একটি অংশগ্রহণমূলক সুন্দর নির্বাচন করুন। এতে যারাই বিজয়ী হবে আমরা তাদের পেছনে দাঁড়াব।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছুটিতে থাকাকালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটন ও পরিচালনা জড়িয়ে পড়েন নেভাল সিরাজ। ৯ ও ১০ এপ্রিল ইপিআরের সাথে মিলে বাগবাড়ি-পালবাড়ি-পাঁচদোনায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলেন। এরপর তিনি বিশাল অস্ত্র সম্ভার গড়ে তোলেন। ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে নিজ গ্রাম নেহাবকে কেন্দ্র করে এর সড়কের দুই পাশের জনপদে মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য ঘাঁটি গড়ে তোলেন। তার বীরত্বের কথা দিগি¦দিক ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার এই খ্যাতি শাসক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ষড়যন্ত্রেই ১৯৭২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার থানার পুরিন্দায় গুলি করে হত্যা করা হয় নেভাল সিরাজ বীরপ্রতীককে।