পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ৮.৯ ডিগ্রিতে নামল তাপমাত্রা

Printed Edition

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গতকাল তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫-৬ কিলোমিটার।

গত কয়েক দিন ধরেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সাধারণ মানুষের শীতের কষ্ট বেড়েছে কয়েক গুণ। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান, বাড়ির সামনে খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। নিম্ন আয়ের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কাজে যেতে পারছেন না। সব মিলিয়ে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ায় সাধারণ মানুষ পুরনো শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে লেপ-তোষকের দোকানেও ভিড় করছেন।

এ ছাড়া গ্রামের মানুষজন গাছের পাতা, খড়-কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। রাতে গরিব-অসহায় মানুষরা চট গায়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। সব মিলিয়ে গরিব অসহায়রা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। সামনে আরো তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দিনের বেশির ভাগ সময়ই কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে থাকার কারণে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে কমে আসায় দিনের বেলাতেও হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার আগেই গ্রামের হাটবাজার ফাঁকা হয়ে পড়ছে, মানুষ হয়ে পড়ছেন ঘরমুখি।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামান বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব হলো শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে জেলায় প্রায় আট হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে, আরো ৬৫ হাজার অসহায় শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।