গোপালগঞ্জ-২ আসন

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি জিততে তৎপর বিএনপি-জামায়াত

Printed Edition
bangla-1
ডা: কে এম বাবর, অ্যাড. আজমল হোসেন সরদার, এম এইচ খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, তৌহিদুর রহমান তাজ, মাও: তাসলিম হুসাইন সিকদার, মাও: কাওসার আহ্মাদ, মাও: নাসির উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মফিজ, অ্যাড. মাহমুদ হাসান, শেখ মো: মুনায়েম, বাধন মিয়া

সেলিম রেজা গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ-২ আসনে নানামূখী প্রচারে নিজ নিজ এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পথে প্রান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও আংশিক কাশিয়ানী) সংসদীয় আসনটি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে রাজপথেই দাঁড়াতে পারেননি অন্য মতাদর্শের রাজনীতিবিদরা। প্রকাশ্যে পালন হয়নি কোনো কর্মসূচিও।

জুলাই বিপ্লবের পর আমূল বদলে গেছে চিত্র। এখন অবাধ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীসহ অন্য ইসলামপন্থী দলগুলোও। জামায়াত আয়োজন করছে বড় মিছিল সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবার আগে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। এ ছাড়া আরো কয়েকটি দলের প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি আসনটি নিজেদের দখলে নিতে নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

দলীয় মনোনয়ণ ঘোষণার পর বিএনপির বিদ্রোহী তিন প্রার্থীর প্রচারে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন মনোনীত প্রার্থী গোপালগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা: কে এম বাবর। গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বঞ্চিত পাঁচ প্রার্থীর ব্যানারে বিক্ষোভ হয়েছে। নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে আগে থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে জামায়াত। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী দলটির সাবেক জেলা আমির অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন সরদার। বিএনপি শিবিরে প্রার্থীতা ও মনোনয়ন ঘিরে বিভক্তির সুবিধা নিয়ে অনেকটা বাধাহীন প্রচারের মাঠে এখন ভালো অবস্থানে জামায়াত।

গোপালগঞ্জে সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-২ সংসদীয় আসন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯১ হাজার ১২২ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৭ জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার ৭৩১জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার রয়েছেন চারজন। কেন্দ্র রয়েছে ১৫১টি।

আসনটিতে নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন, বিএনপির বিদ্রোহী তিন প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা তাসলিম হুসাইন সিকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাওসার আহমাদ, খেলাফত মজলিস মনোনীত কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর জোন পরিচালক হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দীন, গণফোরাম মনোনীত কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মফিজ, জাকের পার্টি মনোনীত গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান, গণ অধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুনায়েম ও এনসিপির গোপালগঞ্জ জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক বাধন মিয়া।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দলের মনোনীত প্রার্থী ডা: কে এম বাবর বলেন, বিগত ১৭ বছর জেলা বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠন নিয়ে মাঠে থাকায় তারেক রহমান দলীয় মনোনয়ন দিয়ে আমাকে যে মূল্যায়ন করেছে, তার প্রতিদান স্বরুপ দলের সব নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনটি মডেল আসন হিসেবে তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন সরদার বলেন, আল্লাহর আইন ছাড়া মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। আল্লাহর আইনের পাশাপাশি সৎ লোকের শাসন চাই। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু বলেন, ডা: বাবর অজনপ্রিয় ও জনবিচ্ছিন্ন। তার পক্ষে ধানের শীষের বিজয় সম্ভব নয়। আমাদের পাঁচজনের যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষেই কাজ করব।

জেলা বিএনপির অপর সাবেক সভাপতি এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য গোপালগঞ্জে অতীতে যারা রাজপথে ছিল, জনগণের সাথে ছিল, রাজনীতিতে ছিল, গরিব দুখি মানুষের সাথে ছিল সেরকম একজন মানুষকে মনোনয়ন দেয়া হোক। দুর্ভাগ্যবসত আমাদের সেই আশা আকাক্সক্ষা পূরণ হয় নাই।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ বলেন, ‘তালিকা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ঘোষিত প্রার্থীকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আমাদের দাবি, দল পুনর্বিবেচনা করে আমাদের পাঁচজনের মধ্যে যে কাউকে মনোনয়ন দিলে কারো আপত্তি থাকবে না।