বাঁশের তৈরি পণ্য ফেরি করেই চলে সংসার

Printed Edition
bangla-2
বাঁশের তৈরি পণ্য ফেরি করেই চলে সংসার

মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা

গ্রামীণ জনপদে বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী এখনো জনপ্রিয়। এ শিল্প বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য। বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়লেও এখনো নিত্যব্যবহার্য হিসেবে বাজারে কেনাবেচা হয়। গ্রামগঞ্জে বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রীর এখনো ব্যাপক চাহিদা। হাটবাজারের পাশাপাশি এ শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে গ্রামে গ্রামে। এসব সামগ্রী হাতের কাছে পেয়ে খুব খুশি গ্রামের মহিলা ক্রেতারা। ধানের কাজের জন্য এসব পণ্য ক্রয় করছে অনেকেই।

এ বাঁশের তৈরি সামগ্রী ফেরিতে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গুজামানিকা এলাকার সহদেব (৪২) বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝে ব্যাংকঋণ ও ধারদেনায় পুজি খাটিয়ে দলে রেখেছেন বাপ-দাদার পুরনো এ ব্যবসা। কয়েক বছর ধরে বাঁশ দিয়ে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করেই চলছে তার সংসার। বাঁশের তৈরি সামগ্রী পরিবহনে ব্যাবহার করেন নিজস্ব ভ্যানগাড়ি। গাড়ির সাথে লাগানো প্রচারের জন্য রয়েছে ছোট মাইক।

মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ফেরি করেন তিনি। কুলো, চালুন, ডালা, চাই, ঝাড়ু, চাটাই ইত্যাদি ছাড়াও রয়েছে আরো কয়েক ধরনের সামগ্রী। সহদেব বলেন, আমাদের গ্রামে অনেকেই বাঁশ দিয়ে সামগ্রী তৈরি করে। তবে আমি শুধু বাঁশের চাটাই তৈরি করি নিজ হাতে। বাকি সব সামগ্রী বিভিন্ন কারিগরদের কাছ থেকে ক্রয় করে ফেরি করে বিক্রি করি। প্রতিদিন আট থেকে দশ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করি। এতে মোটামুটি সংসার চলে যায়। সহদেব আরো বলেন, বর্তমানের তুলনায় আগে এ পণ্যের চাহিদা ছিল বেশি। লাভও হতো বেশি। তবে ধানকাটার সময়ে চাহিদা একটু বেড়ে যায়, তখন বিক্রিও একটু বাড়ে। নিজস্ব পুঁজি না থাকায় ব্যাংকঋণ নিয়ে, ধার-দেনা করে ব্যবসা করতে হচ্ছে। বর্তমান সময়ে গৃহস্থালির কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এ শিল্প থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। ফুলকোঁচা ইউনিয়নের কোনামালঞ্চ গ্রামের মুসলিমা বেগম নামে এক গৃহিণী বলেন, বাঁশের তৈরি এসব গৃহস্থালি পণ্য বাড়ি বাড়ি নিয়ে আসায় আমরা আমাদের পছন্দমতো জিনিস কিনতে পারছি। এসব পণ্য আমাদের হাতের নাগালে পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি। লিয়াকত মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, বাঁশের তৈরি পণ্য বাড়িতে নিয়ে আসায় দেখেশুনে ভালো মানের পণ্য ক্রয় করতে পারি। এতে আমাদের সময় বাঁচে।