থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সঙ্ঘাতে বাস্তুচ্যুত ৫ লাখেরও বেশি মানুষ

Printed Edition
Int-3
থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশে থাই ও কম্বোডিয়ার সেনাদের সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা : ইন্টারনেট

আল জাজিরা ও এএফপি

বিরোধপূর্ণ সীমান্ত নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সঙ্ঘাত তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে; লড়াই এরই মধ্যে দুই দেশের অন্তত ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, আহত ছাড়িয়েছে কয়েক ডজন। সঙ্ঘাতের জেরে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দুই প্রতিবেশী দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি রাজধানী ব্যাংককে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম-শহরগুলো থেকে চার লাখেরও বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছেন। সেনা ও পুলিশবাহিনী এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করছে। আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

একই দিন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যালি সোচিয়েতা জানান, দেশের পাঁচটি প্রদেশ থেকে মোট এক লাখ এক হাজার ২২৯ জন নাগরিককে নিরাপদ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছেন দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এ দিকে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এশীয় দুই প্রতিবেশীর এই সঙ্ঘাত থামাতে তাদের নেতাদের সাথে তিনি ফোনে কথা বলবেন। তার মধ্যস্থতাতেই জুলাইয়ে দুই দেশ পাঁচ দিনের লড়াই শেষে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি সীমান্ত সঙ্ঘাত নিয়ে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন না এবং পরিস্থিতি তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার অবস্থায় নেই।

অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেটের এক শীর্ষ উপদেষ্টা বলেছেন, তার দেশ ‘যেকোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’

পেনসিলভানিয়ায় মঙ্গলবার এক সমাবেশে ট্রাম্প ফের ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরাইলসহ গত এক বছরে অনেকগুলো যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেন। আটকে যান থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া প্রসঙ্গে এসে। ‘এটা বলতে খারাপ লাগছে, এই কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, এটি শুরু হয়েছে আজ এবং আমি আগামীকাল ফোন করতে যাচ্ছি। কে বলতে পারে আমি হয়তো একটি ফোন করেই দুই শক্তিশালী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারি,’ বলেছেন তিনি।

ট্রাম্প এর আগেও দুই দেশের নেতাদের সাথে কথা বলেছিলেন, তিনি জুলাইয়ের লড়াইয়ের পর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির কেন্দ্রীয় চরিত্রেও ছিলেন। পাঁচ মাসের আগের ওই যুদ্ধ ছিল দেশ দু’টির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সবচেয়ে তীব্র সঙ্ঘাত, যা অন্তত ৪৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

জুলাইয়ে ট্রাম্প বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানিয়ে দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেলেন। কিন্তু এবার থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও রয়টার্সকে বলেছেন, তার দেশকে আলোচনায় বসাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়া ঠিক হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

অক্টোবরে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে উত্তেজনা কমিয়ে আনার অনেক পদক্ষেপের ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল।