বলিউডের আলোর বাইরে সালমান খানের জীবন

Printed Edition
Bino-4
বলিউডের আলোর বাইরে সালমান খানের জীবন

বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের এই সুপারস্টার শুধু অভিনয় নয়, তার জীবন পদ্ধতি, মানবিকতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা ফাঁদতে গিয়েছিলেন রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। গত বৃহস্পতিবার পঞ্চম সংস্করণের এই উৎসবে ‘ইন কনভারসেশন’ সেশনে সালমান খান তার ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ারের পেছনের শৃঙ্খলা এবং আরব চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি আগ্রহ নিয়ে মুক্তকণ্ঠে কথা বলেন।

২৫ বছর ধরে সাধারণ জীবন থেকে দূরে রয়েছেন এই তারকা। তিনি জানান, গত দুই যুগ ধরে তিনি একটি সাধারণ ডিনারের জন্যও বাইরে যাননি। তার জীবন ঘোরে বাড়ি, শুটিং সেট, বিমানবন্দর ও হোটেলের মধ্যেই। এই তারকার কণ্ঠে ছিল গভীর কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আপনি হয় বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, নয় এই জীবন বেছে নেবেন। আমি এটি বেছে নিয়েছি কারণ মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দেয়, তার জন্য।’ অভিনয় জগতে এত দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার পেছনে তিনি স্বীকার করেন, মাঝে মধ্যে অলসতা বা আত্মতৃপ্তির মুহূর্তও আসে। কিন্তু তিনি সেগুলোকে নিজের যাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য সবসময় উদগ্রীব থাকেন। আরব বিশ্বের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে সালমান খান বলেন, ‘এখানে পাঁচ বছরের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের বিশাল বৃদ্ধি হবে। আমি এখানকার তরুণ প্রতিভাগুলো দেখে মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘এতগুলো আরব দেশের মধ্যে এত সৃজনশীলতা এবং দক্ষতা আছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি এখানে এসেছি কারণ ভবিষ্যতে এখানকার সাথে কাজ করতে চাই। আমি তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পরামর্শ দেবো- তোমার হৃদয়ের কথা শোনো; কিন্তু নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের সাথে কাজ করো। আবেগকে প্রতিজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত করো।’

চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তার অনন্য পদ্ধতি তুলে ধরে সালমান বলেন, ‘যখন আমার কাছে স্ক্রিপ্ট আসে, আমি নিজে পড়ি না। আমি পরিচালকের কাছ থেকে শুনি। তিনি যখন স্ক্রিপ্ট পড়েন, তখন আমি চরিত্রটি বুঝতে শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম পাঠের শেষেই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমি এই চরিত্র করতে পারব কিনা। দ্বিতীয় পাঠের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। সব কিছু নির্ভর করে স্ক্রিপ্টের ওপর।’

সমাজসেবাকে তিনি বলেন নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘আমি চাই সমাজের কাছে কিছু ফিরিয়ে দিতে। তবে আমি ভেবেছিলাম, বারবার বন্ধুদের আমার দান-খাজনা ট্রাস্টে অবদান রাখতে বললে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।’

এ কারণেই তিনি তার নিজস্ব পোশাক ব্র্যান্ড ‘বিং হিউম্যান’ চালু করেন। ‘মানুষ শুধু তখনই আমার পোশাক কিনবে যদি তারা মনে করে গুণগত মান ভালো। আমি কখনোই কাউকে মানহীন পণ্য কেনার জন্য বাধ্য করব না।’