২০২৫ সালে বিশ্বে ৮ হাজার অভিবাসী মৃত বা নিখোঁজ : জাতিসঙ্ঘ

Printed Edition
onno-4
ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া উপকূলের কাছে একটি রাবার বোট থেকে অভিবাসীরা হাত নাড়িয়ে ‘ওশান ভাইকিং’ উদ্ধারকারী জাহাজের কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। ছবিটি ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ সালের ফাইল ছবি : ইন্টারনেট

আনাদোলু

জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম মঙ্গলবার জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে উন্নত ভবিষ্যৎ বা নিরাপত্তার সন্ধানে গিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় আট হাজার অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে অথবা তারা নিখোঁজ হয়েছেন। সংস্থার মানবিক সহায়তা ও পুনরুদ্ধার বিভাগের পরিচালক মারিয়া মইতা জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন যে এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতিকেই ফুটিয়ে তুলছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে এশিয়ায় মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে যেখানে শত শত রোহিঙ্গা এবং আফগান নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মইতা জানান যে অভিবাসনের চাপ কমেনি বরং সঙ্ঘাত জলবায়ু পরিবর্তন শ্রমের চাহিদা এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে যাতায়াতের পথ বদলে গেছে। কিছু প্রচলিত পথে লোক সমাগম কমলেও নতুন পথগুলো আরো দীর্ঘ এবং অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আইওএম এর কর্মকর্তা আন্দ্রেয়া গার্সিয়া জানান যে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা কিছুটা কম। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৯ হাজার ১৯৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে ২০২৫ সালের কম সংখ্যার অর্থ এই নয় যে মানুষ কম মারা গেছে বরং তথ্য পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং অনেক ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ায় এমনটি হতে পারে। এ ছাড়া আরো প্রায় এক হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ বা মারা গেছেন বলে সংস্থাটি ধারণা করছে কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাদের সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আইওএম এর তথ্যানুযায়ী ভূমধ্যসাগর এখনো অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী পথ হিসেবে রয়ে গেছে। অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরে নিহতের সংখ্যা টানা তৃতীয় বছরের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ব্যবহৃত স্থলপথগুলোকেও অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেখানে একদিকে ইউক্রেন সঙ্ঘাত চলছে এবং অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল বাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের লাশ উদ্ধার ও অসংখ্য মানুষকে বন্দী করার ঘটনায় অস্থিরতা বিরাজ করছে তার মধ্যেই অভিবাসীদের এই মৃত্যুর খবর এলো। একই সাথে লোহিত সাগরে হাউছি বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণেও বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। মূলত নিরাপদ জীবনের সন্ধানে বেরিয়ে এসব অভিবাসী বিশ্বরাজনীতির এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।